পায়ের টান, পেটে রক্তজমাট চোট— তবু ভাইয়ের দলের বিরুদ্ধে লড়ে ম্যাচ জেতালেন ক্রুণাল

তবু ভাইয়ের দলের বিরুদ্ধে লড়ে ম্যাচ জেতালেন ক্রুণাল! মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে রবিবারের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শুধু পায়ের পেশিতে টান নিয়েই খেলেননি ক্রুণাল পাণ্ড্য। ম্যাচের পর জানা গেল, গুরুতর চোট লুকিয়েই ব্যাট…

May 12, 2026
0 min read

তবু ভাইয়ের দলের বিরুদ্ধে লড়ে ম্যাচ জেতালেন ক্রুণাল!

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে রবিবারের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শুধু পায়ের পেশিতে টান নিয়েই খেলেননি ক্রুণাল পাণ্ড্য। ম্যাচের পর জানা গেল, গুরুতর চোট লুকিয়েই ব্যাট করছিলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর এই অলরাউন্ডার। পেটেও একাধিক জায়গায় বলের আঘাত লেগেছিল তাঁর। সেই অবস্থাতেই ৪৬ বলে ৭৩ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে দলকে জয়ের পথে টেনে নিয়ে যান তিনি।

ম্যাচের পরে সমাজমাধ্যমে নিজের চোটের ছবি পোস্ট করেন ক্রুণাল। সেখানে দেখা যায়, নাভির উপরের অংশে বড়সড় কালশিটে পড়ে গিয়েছে। কোথাও কোথাও রক্ত জমাটও বেঁধেছে। অন্তত দু’বার বল সোজা গিয়ে লাগে তাঁর পেটে। ছবির সঙ্গে ক্রুণাল লেখেন, “কিছু ক্ষতচিহ্ন বলে দেয়, একটা লড়াই কতটা মূল্যবান ছিল।”

রবিবারের ম্যাচে ক্রুণালের লড়াই ছিল সত্যিই চোখে পড়ার মতো। বেঙ্গালুরুর ইনিংসের ১৭তম ওভারের পর থেকেই তাঁর পায়ের পেশিতে টান ধরতে শুরু করে। মাঠে ঢুকে চিকিৎসা করতে হয় দলের ফিজিয়োদের। হাঁটতে পারলেও ঠিক মতো দৌড়তে পারছিলেন না তিনি। কিন্তু তাতেও থামেননি। পরের ওভারেই প্রায় এক পায়ে ভর করে বড় শট খেলতে শুরু করেন।

আল্লা গজনফরের এক ওভারে টানা দু’টি বিশাল ছক্কা মারেন ক্রুণাল। তখনই বোঝা যাচ্ছিল, শরীরের সঙ্গে লড়াই করেই ব্যাট করছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আর একটি বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন। যদিও সেই ক্যাচ নিয়েও নাটক তৈরি হয়েছিল। তিলক বর্মা প্রথমে বল ধরলেও ভারসাম্য হারিয়ে বাউন্ডারির বাইরে চলে যাচ্ছিলেন। তাই বল উপরে ছুড়ে দিয়ে বাইরে পা পড়ার পর আবার ভেতরে এসে ক্যাচ সম্পূর্ণ করেন।

ম্যাচ চলাকালীন দর্শকেরা শুধু পায়ের সমস্যাটাই দেখেছিলেন। কিন্তু পরে জানা যায়, পেটের গুরুতর চোট নিয়েও খেলছিলেন ক্রুণাল। কোন বোলারের বল খেলতে গিয়ে এই আঘাত পেয়েছেন, তা অবশ্য জানাননি তিনি।

নিজের ইনিংস নিয়ে পরে ক্রুণাল বলেন, “আমি হারতে একদম পছন্দ করি না। যতক্ষণ সম্ভব লড়াই চালিয়ে যেতে চাই। ক্রিকেট এমন একটা খেলা, যেখানে ভাল দিনের চেয়ে খারাপ দিন বেশি আসে। সেই অভিজ্ঞতাই মানুষকে বিনয়ী করে দেয়।”

এই সাফল্যের পিছনে পরিবারের ভূমিকাও তুলে ধরেন তিনি। ক্রুণাল বলেন, “আমার স্ত্রী সব সময় আমার পাশে থেকেছে। ও না থাকলে হয়তো এত দূর আসা সম্ভব হত না। মায়ের কথাও বলব। আর বাবাকে খুব মনে পড়ে। উনি বেঁচে থাকলে আজ খুব খুশি হতেন।”

এই জয়ের ফলে আইপিএলের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে বেঙ্গালুরু। এ বার দু’বারই মুম্বইকে হারাল তারা। আর দুই ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিলেন ক্রুণাল। অন্য দিকে, চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারেননি তাঁর ভাই হার্দিক পাণ্ড্য। মুম্বইকে নেতৃত্ব দেন সূর্যকুমার যাদব।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *