পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়াডে ক্রিকেটে সোনা ভারতের!
মেয়েদের পর এশিয়ান গেমসে ছেলেদের ক্রিকেটেও সোনা জিতল ভারত। শনিবার ফাইনালে পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে সোনার পদক ধরে রাখলেন শ্রেয়স আয়ারেরা। প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২১১ রান করে ভারত। জবাবে পাকিস্তান ৬ উইকেটে ১৯২ রানেই থেমে যায়। তবে মাঠের সোনালি সাফল্যের মাঝেও ভারত-পাক ক্রিকেটীয় দূরত্বের ছায়া পুরোপুরি কাটল না।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রেয়স। শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। ৯ বলে ১৫ রান করে ফিরে যান বৈভব সূর্যবংশী। তাঁর ইনিংসে ছিল দু’টি ছক্কা। সাইম আয়ুবের স্পিনে আউট হওয়ার পর বৈভবকে শিশুকে দোলানোর ভঙ্গিতে বিদ্রুপ করেন পাক স্পিনার। যদিও বিষয়টি পরে আর বাড়েনি।
এর পর অভিষেক শর্মার ব্যাটে গতি পায় ভারতের ইনিংস। মাত্র ২৮ বলে ৬১ রান করেন তিনি। তিনটি চার এবং সাতটি ছক্কায় সাজানো ইনিংস। তবে সঞ্জু স্যামসন, শ্রেয়স আয়ার এবং ঈশান কিশন বড় রান করতে পারেননি। শ্রেয়স ২১ এবং ঈশান ২০ রান করে ফেরেন।
পর পর উইকেট পড়লেও ভারতীয় ব্যাটিংয়ের গতি থামেনি। তিলক বর্মা এবং শিবম দুবে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। ১৫ বলে ২৭ রান করেন শিবম। তিলক ছিলেন আরও বিধ্বংসী। ২২ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। মারেন তিনটি চার ও চারটি ছক্কা। তাঁদের ব্যাটেই ২০০ পেরিয়ে যায় ভারতের রান।
২১২ রানের লক্ষ্য নিয়ে নেমে পাকিস্তানও শুরুতে ভালই খেলছিল। মাজ় সাদাকত ২৩ রান করলেও অধিনায়ক সাহিবজ়াদা ফারহান ১০ রান করে ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে ফিরে যান। ৩৯ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান।
এর পর হাসান নওয়াজ় এবং সাইম আয়ুব চেষ্টা করেন ম্যাচে ফেরার। সাইম ২২ বলে ২৯ রান করে শিবমের বলে আউট হন। অন্য দিকে একাই পাকিস্তানের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন নওয়াজ়। ৫১ বলে ৯৬ রানের ঝোড়ো ইনিংসে পাঁচটি চার ও সাতটি ছক্কা মারেন তিনি। কিন্তু অন্য প্রান্তে পর্যাপ্ত সঙ্গী না পাওয়ায় তাঁর লড়াই শেষ পর্যন্ত কাজে এল না। পাকিস্তান থামে ১৯২ রানে।
ভারতের হয়ে অক্ষর পটেল এবং ওয়াশিংটন সুন্দর দু’টি করে উইকেট নেন। শিবমও নেন দু’টি উইকেট। ফলে ১৯ রানে ম্যাচ জিতে ছেলেদের ক্রিকেটে দ্বিতীয় বার এশিয়ান গেমসের সোনা পেল ভারত।
তবে ম্যাচের শুরু ও শেষে থেকে গেল অন্য রকম একটি ছবি। টসের সময় শ্রেয়স এবং ফারহান হাত মেলাননি। ম্যাচ শেষেও দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়ের দৃশ্য দেখা যায়নি। অন্য খেলাগুলিতে ভারত-পাক খেলোয়াড়দের সৌহার্দ্যের ছবি দেখা গেলেও ক্রিকেটে সেই দূরত্বই বজায় রইল।
এই ফাইনাল দেখতে উপস্থিত ছিলেন আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ এবং বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ শইকীয়া। একই দিনে পুরুষদের ব্যক্তিগত রিকার্ভ তিরন্দাজিতেও ভারতের সাফল্য আসে। ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে সতীর্থ ধীরজ বোম্মাদেবেরাকে ৬-৪ হারিয়ে পদক জেতেন নীরজ চৌহান।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।