পর্যটনে স্বচ্ছতার লক্ষ্য, এক অ্যাপেই হোটেল-ট্যাক্সি বুকিং!
পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্পকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও পর্যটকবান্ধব করে তুলতে বড় উদ্যোগের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। পর্যটকদের প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হোটেল, ট্যাক্সি, ট্যুর অপারেটর এবং বুকিং পরিষেবাকে আনার পরিকল্পনার কথা জানালেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। পাশাপাশি দার্জিলিং, সুন্দরবন ও মন্দারমণির মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার রূপরেখাও তুলে ধরেছেন তিনি।
উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে শিলিগুড়িতে পর্যটন ও শিল্পমহলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, রাজ্যের অন্যতম অগ্রাধিকার হল পর্যটন শিল্পে স্বচ্ছতা আনা এবং পর্যটকদের নিরাপদ পরিষেবা নিশ্চিত করা।
এই লক্ষ্যেই খুব শীঘ্রই একটি সরকারি অ্যাপ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ওই অ্যাপের মাধ্যমে সরকারের নথিভুক্ত হোটেল, ট্যাক্সি, ট্যুর অপারেটর এবং বুকিং সংস্থাগুলিকে এক প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। পর্যটকদের উদ্দেশে শঙ্কর বলেন, সরকারি স্বীকৃত পরিষেবা ব্যবহার করলে প্রতারণার আশঙ্কা কমবে এবং পরিষেবার দায়িত্বও সরকার নেবে।
পর্যটনমন্ত্রী আরও জানান, দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। অর্থ দফতর ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। তাঁর কথায়, বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে দুর্গাপুজোকে আরও বড় করে তুলে ধরাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের পর্যটন কেন্দ্রগুলিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শঙ্কর ঘোষের মতে, অন্য পাহাড়ি রাজ্যের পর্যটকদের কাছে দার্জিলিংয়ের পাশাপাশি সুন্দরবন ও মন্দারমণির মতো গন্তব্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রের ‘গ্লোবাল ডেস্টিনেশন’ প্রকল্পের আওতায় সুন্দরবনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মন্দারমণি নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে।
পর্যটন উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে খড়্গপুর আইআইটির সহায়তায় একটি ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরির কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী। বিভিন্ন রাজ্যের পর্যটকদের পছন্দ ও ভ্রমণ প্রবণতা বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী প্রচার কৌশল তৈরি করা হবে।
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তও জানান, উত্তরবঙ্গকে ঘিরে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে। এতদিন চা-বাগান ও পর্যটনের জন্য পরিচিত এই অঞ্চলে ভবিষ্যতে শিল্প ও বিনিয়োগও বাড়বে বলে তাঁর আশা। সরকারের লক্ষ্য, পর্যটনকে আরও শক্তিশালী করে পশ্চিমবঙ্গকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?