‘হিন্দোল’ মৃত্যুঞ্জয়ের তড়িঘড়ি বিয়ের নেপথ্যে কী কারণ?
পর্দা আর বাস্তবের সীমারেখা যেন ক্রমশ ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে অভিনেতা মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্যের জীবনে। ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’–এ ‘হিন্দোল মিত্র’ চরিত্রে খলনায়ক হলেও, নায়িকা অপর্ণার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অকৃত্রিম। তবু পর্দায় সেই প্রেমের পূর্ণতা মিলছে না—বিয়ের আসর থেকেই পালিয়ে গেছে অপর্ণা। কিন্তু পর্দায় হারের ক্ষত হয়তো বাস্তবে পুষিয়ে নিতে চাইলেন মৃত্যুঞ্জয়। কারণ, ধারাবাহিকে বিয়ে আটকে গেলেও, বাস্তবে সাতপাকে বাঁধা পড়ে গেলেন তিনি।
পর্দায় বিয়ে আটকে, বাস্তবে মণ্ডপে
ধারাবাহিকে হিন্দোল ও অপর্ণার আইনি বিয়ের পর সাতপাক ঘোরার কথা ছিল, কিন্তু সেই পরিকল্পনা বদলে গেল গল্পে। ঠিক তখনই বাস্তবে নিজের বিয়ে সেরে ফেললেন মৃত্যুঞ্জয়—পর্দার মতো করেই, প্রথমে আইনি বিয়ে করে।
এখানেই জন্ম নেয় নানা জল্পনা। অনেকে ভাবতে শুরু করেন, অপর্ণার কাছ থেকে প্রত্যাখ্যানের শোকই কি তাঁকে তড়িঘড়ি বাস্তবে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে? এই প্রশ্নে হেসে উড়িয়ে দেন অভিনেতা। আনন্দবাজার অনলাইনের সঙ্গে আলাপে মৃত্যুঞ্জয় বলেন, “ওটা নিছক কাকতালীয়। আসলে আমার স্ত্রীর দিদিমার শারীরিক অবস্থা খারাপ। তাই তাড়াহুড়ো করে আইনি বিয়ে সেরে ফেলেছি। ডিসেম্বর মাসে বড় করে সামাজিক অনুষ্ঠান হবে।”
অভিনেতা নয়, ইঞ্জিনিয়ারও তিনি
অভিনয়ের পাশাপাশি মৃত্যুঞ্জয়ের আরেকটি পরিচয়ও রয়েছে—তিনি পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। তাই ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তও তিনি নেন বাস্তবের হিসেবেই।
কথায় কথায় তিনি শোনালেন নিজের প্রেমের গল্পও। “আমার স্ত্রী নেটপ্রভাবী। একদিন রাস্তায় শুটিং চলাকালীন ওকে প্রথম দেখি। সেখান থেকেই শুরু। প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে যাই। ধীরে ধীরে আলাপ, তারপর অনুভূতির গভীরতা আমাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নিয়ে আসে,” বললেন মৃত্যুঞ্জয়।
বাস্তব প্রেমের ছায়া কি পর্দায়?
এই প্রেম কি পর্দায় তাঁর অভিনয়ে প্রভাব ফেলেছে? অভিনেতা তা অস্বীকার করেননি। “হিন্দোল খলনায়ক হলেও নায়িকাকে সত্যিকারের ভালোবাসে। ওর মতো চরিত্র ফুটিয়ে তোলা সহজ নয়। ও যা করছে, তা ভালোবাসা থেকেই করছে। বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই আমাকে অভিনয়ে সাহায্য করেছে,” বললেন তিনি।
তিনি আরও যোগ করেন, “আরও একটা মজার মিল আছে—বাস্তবের মতোই পর্দাতেও এটাই আমার প্রথম বিয়ে। এর আগে যত চরিত্রে অভিনয় করেছি, সব ক’টি আগেই বিবাহিত ছিল!”
আক্ষেপের সুরে রসিকতা
তবে তাড়াহুড়োর এই বিয়ের মধ্যে খানিকটা আক্ষেপের সুরও শোনা গেল অভিনেতার কণ্ঠে। “ভেবেছিলাম, আনুষ্ঠানিক বিয়ের আগে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান এই সময়ের মধ্যে শিখে নেব। কিন্তু সেটাও আর হল না!” হেসে বললেন তিনি।
পর্দায় বিয়ে না হলেও বাস্তবে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন মৃত্যুঞ্জয়। খলনায়কের চরিত্রে থেকেও যিনি ভালোবাসার পক্ষে লড়ে গিয়েছেন, সেই অভিনেতাই বাস্তবে ভালোবাসার জয়ে বেঁধেছেন জীবনের নতুন বাঁধন।
পর্দার গল্প যেখানে এখনো অনিশ্চয়তায় ঘেরা, বাস্তবে কিন্তু সুখী সংসারের পথে পা রেখেছেন ‘হিন্দোল’। আর এই মিল-অমিলের খেলা যেন আরও একবার প্রমাণ করল—বাস্তব অনেক সময়েই পর্দার চেয়ে অনেক বেশি নাটকীয়।
‘সত্যমেব জয়তে’! দিল্লি হাই কোর্ট আবেদন খারিজ, সমীরের মন্তব্যে নতুন ইঙ্গিত?