জনসংযোগে সাফল্য, নীলবাড়ির লড়াইয়ে বাড়ছে চাপ!
বাংলা রাজনীতিতে বিজেপির কিছু নেতাকে নিয়ে চলছে নতুন আলোচনা। তাঁরা দলের নির্ধারিত কর্মসূচি মেনে চললেও নিজেদের মতো করেও রাজনৈতিক বার্তা ছড়াচ্ছেন। এই প্রবণতাকে অনেকেই বলছেন বিজেপির ‘ফ্রিস্টাইল ব্রিগেড’। কেউ আগে তৃণমূলে ছিলেন, কেউ তৃণমূলের কৌশলকে ‘হাইজ্যাক’ করেছেন বলে অভিযোগ। এই ‘ফ্রিস্টাইল’ রাজনীতি বিজেপির জনসংযোগ বাড়ালেও নীলবাড়ির লড়াইয়ে কি জটিলতা বাড়াবে?
শুভেন্দু অধিকারী
বিজেপির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর রাজনীতি একেবারেই নিজের ছন্দে। কাঁথি, তমলুক, ঘাটাল কেন্দ্রে তাঁর প্রভাব সুস্পষ্ট। দলের বন্ধ-বিরোধী নীতি থাকলেও তাঁর অনুগামীরা স্থানীয় স্তরে বন্ধ ডেকেছেন বহুবার। তিনি অরাজনৈতিক সংগঠনের নামে নানা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। বিধানসভায় ওয়াকআউট থেকে রাজভবন অভিযান—সবকিছুতেই শুভেন্দুর ব্যক্তিগত ছাপ স্পষ্ট। তবে বাস্তবে সাঁতার শেখেননি তিনি।
সুকান্ত মজুমদার
বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও অনন্য কৌশল প্রয়োগ করছেন। বলিউড গায়ক এনে বিনামূল্যে অনুষ্ঠান, রামনবমীতে নদীর ঘাটে প্রদীপ জ্বালানো, বারাণসী থেকে পুরোহিত এনে ‘আত্রেয়ী আরতি’—সবই তাঁর জনসংযোগের অংশ। তৃণমূল নেতারা অভিযোগ করেন, সুকান্ত তৃণমূলের কৌশল অনুকরণ করেছেন। যদিও আত্রেয়ীর তীরে বড় হলেও সুকান্ত নিজে সাঁতার শেখেননি।
দিলীপ ঘোষ
সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সর্বদা নিজের মতো করে কাজ করেন। প্রাতর্ভ্রমণ, চা-চক্র বা সাঁতার প্রতিযোগিতা আয়োজন করে জনসংযোগ বজায় রেখেছেন। দিঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি তাঁর ‘ফ্রিস্টাইল’ রাজনীতির বড় উদাহরণ। সাঁতার নিয়ে তাঁর দাবি স্পষ্ট—“খাল, বিল, নদী, সমুদ্র—সব জায়গায় সাঁতার জানি!”
শান্তনু ঠাকুর
মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রভাবশালী নেতা শান্তনু ঠাকুর শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, মতুয়া সমাজের আধ্যাত্মিক কেন্দ্রবিন্দু। দলের সব কর্মসূচিতে না থাকলেও নিজস্ব সংগঠনের মাধ্যমে মতুয়াদের অধিকারের লড়াইয়ে সক্রিয়। সিএএ নিয়ে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল তাঁর দফতর থেকেই। বাস্তবে তিনি দক্ষ সাঁতারুও বটে।
জ্যোতির্ময় মাহাতো
পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতো স্থানীয় রাজনীতিতে ক্রমশ প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন। পুলিশি বাধা সত্ত্বেও তাঁর মিছিল উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি করেছে বহুবার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে সাংবিধানিক সংস্থাগুলির কাছে নিয়মিত চিঠি পাঠানোও তাঁর বিশেষত্ব। সাঁতারেও তিনি পারদর্শী।
রাজু বিস্তা
দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা পাহাড়ি রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। বিজেপি প্রার্থী থেকে নেতৃবৃন্দ—সবাই নির্ভর করেন তাঁর সিদ্ধান্তে। তিনি পাহাড়ের নেতা থেকে সিপিএম নেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন। বাস্তবে সাঁতার জানেন কি না তা অজানা হলেও রাজনীতির স্রোতে তিনি যে দক্ষ, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
এই ছয় নেতার নিজস্ব স্টাইল বিজেপির জনসংযোগকে শক্তিশালী করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের নির্ধারিত নীতির বাইরে এই স্বাধীন রাজনীতি ভবিষ্যতের ভোট লড়াইয়ে দলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। বঙ্গ বিজেপির এই ‘ফ্রিস্টাইল ব্রিগেড’ তাই এখন রাজনীতির অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ