পদত্যাগের ভাবনায় মুহাম্মদ ইউনূস!
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নাকি পদত্যাগের কথা ভাবছেন—এমনই ইঙ্গিত দিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইউনূসের ঢাকার বাসভবন ‘যমুনা’য় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন তিনি। সেখান থেকেই বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, “স্যার (ইউনূস) দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত হতাশ। তাই পদত্যাগ নিয়ে ভাবছেন।”
নাহিদ জানান, ইউনূসের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন ওঠার পরেই তিনি সরাসরি দেখা করতে যান। আলোচনায় উঠে আসে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ এবং চলমান আন্দোলনের প্রভাব। নাহিদের দাবি, “স্যার বলেছেন, দেশে যেভাবে পরিস্থিতি চলছে, তাতে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্যের অভাব এবং চলমান আন্দোলন তাঁকে কার্যত অসহায় করে তুলেছে।”
এই সাক্ষাতে, ইউনূস তাঁর হতাশার কথা জানান এবং বলেন, জাতীয় পরিবর্তনের আশায় তাঁকে এই দায়িত্বে আনা হলেও বাস্তবে তিনি কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ পাচ্ছেন না। গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশের সংস্কার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য থাকলেও, রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা না থাকলে তা সম্ভব নয়।
নাহিদ ইউনূসকে পদত্যাগ না করার জন্য অনুরোধ করেছেন। তাঁর মতে, “এই মুহূর্তে তাঁর মতো একজন নিরপেক্ষ ও সম্মানিত ব্যক্তির থাকা অত্যন্ত জরুরি। আমি স্যারের কাছে অনুরোধ করেছি, যেন তিনি পদত্যাগ না করেন। বরং রাজনৈতিক দলগুলো যেন তাঁর পাশে দাঁড়ায় এবং সম্মিলিতভাবে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে কাজ করে।”
এ দিকে, বিএনপি ইতিমধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা ও এক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছে। পাল্টা, জাতীয় নাগরিক পার্টিও একই দাবিতে আওয়াজ তুলেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে টানাপড়েন তীব্র হচ্ছে।
নাহিদ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও তোলেন—“যদি কোনও রাজনৈতিক দল তাঁকে চাইছে না, যদি তাঁর প্রতি আস্থা না থাকে, তাহলে তিনি থেকে কী করবেন?” এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে, ইউনূসের অবস্থান অনেকটা কোণঠাসা।
মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের সম্ভাবনা এখন দেশের রাজনীতিতে একটি বড় জল্পনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মুহূর্তে তিনি থাকবেন না চলে যাবেন—তা শুধু তাঁর সিদ্ধান্ত নয়, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতেরও ওপর নির্ভর করছে।
বার্লি আর চিয়ার জল: কিডনির যত্নে সুস্বাদু ওজন কমানোর নয়া উপায়