আহত বধূ: কানপুরের নৃশংস ঘটনা
কানপুরের কলোনেলগঞ্জ এলাকার এক মর্মান্তিক ঘটনার খবর ছড়িয়েছে সমাজে। ২০২১ সালে শাহানওয়াজের সঙ্গে বিয়ে হওয়া রেশমাকে পণের টাকা মেলেনি বলে ‘শাস্তি’ দিতে তার শ্বশুর-শাশুড়ি ঘরে আটকে সাপ ছেড়ে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বিষাক্ত সাপ রাতের অন্ধকারে বধূর উপর আক্রমণ করে। যন্ত্রণায় ছটফট করলেও ঘরের দরজা খোলা হয়নি, বরং বাইরে দাঁড়িয়ে হাসাহাসি করা হচ্ছিল। শেষমেষ রেশমার দিদিই এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং হাসপাতালে ভর্তি করান।
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রেশমার বিয়ের পর থেকে শাহানওয়াজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পণের বাকি টাকা আদায় করতে চাপ প্রয়োগ করতেন। কিছু দিন আগে দেড় লক্ষ টাকা দেওয়া হলেও আরও পাঁচ লক্ষ টাকা বাকি ছিল। পণের টাকা না মেলায় এই নৃশংস কাণ্ড সংঘটিত হয়।
রেশমার দিদি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, রেশমাকে জোরপূর্বক একটি ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করা হয়েছিল। ঘরের পাশে থাকা নালা দিয়ে পরিবারের সদস্যরা সাপ ঢুকিয়ে দেন। সাপ ছোবল মারার পর বধূ যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও কেউ দরজা খোলেননি। বরং তারা বাইরে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখছিলেন। দিদি যোগাযোগ করার পর রেশমাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, রেশমার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর এবং আরও তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগে খুনের চেষ্টার ধারাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই ঘটনা সমাজে একবার আরও নৃশংসতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বধূর উপর পরিবারিক সহিংসতা এবং অর্থের লোভকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এই ঘটনায় পরিবার, প্রতিবেশী এবং প্রশাসনকে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত হলো।
রেশমার চিকিৎসা চলছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছেন, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এ ধরনের ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নারী সুরক্ষা এবং মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখা কতটা জরুরি।
ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা