শিক্ষা দফতর
শিক্ষা দফতর সম্প্রতি স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের পোশাকের চাহিদার হিসাব তোলার জন্য নতুন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকদের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ছাত্রভিত্তিক পোশাকের চাহিদার হিসাব প্রদান করতে বলা হয়েছে। শিক্ষাদফতরের দাবি, এই হিসাবের ভিত্তিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠী পোশাক প্রস্তুত করে স্কুলগুলিকে সরবরাহ করবে।
শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে স্কুলের পোশাক সংক্রান্ত একটি ওয়ার্ক অর্ডার জারি করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, স্বনির্ভর গোষ্ঠী বিভিন্ন স্কুলে পোশাক সরবরাহ করেছে। তবে, যেসব স্কুলে পড়ুয়াদের সংখ্যা বেড়েছে, সেসব স্কুল নতুন পোশাক পায়নি। আবার কিছু স্কুল প্রথম দফায় ওয়ার্ক অর্ডার স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে দেয়নি। এই কারণে পড়ুয়াদের পোশাকের অভাব দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান শিক্ষকদের নতুন করে ওয়ার্ক অর্ডার তৈরি করে স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে দিতে বলা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে অনেকে অভিযোগ করেছেন, স্কুলের পোশাক নিয়ে অভিভাবক ও পড়ুয়াদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, অনেক স্কুলেই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সরবরাহ করা পোশাকের মান খারাপ। “অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য হাফ প্যান্ট দেওয়া হয়েছে, কিন্তু দুই সেট পোশাকের বদলে একটি সেট পোশাক দেওয়া হচ্ছে,” বলছেন ‘অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস’-এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন মাইতি।
মাইতি আরও জানান, “মেয়েদের পোশাকের জন্য দুটি সালোয়ার কামিজ দেওয়া হলেও, ওড়না একটি মাত্র। পোশাকের মাপেও ভুল হচ্ছে। এসব কারণে অভিভাবকেরা স্কুলের সামনে বিক্ষোভও করেছেন।” এই পরিস্থিতির ফলে অনেক প্রধান শিক্ষক পোশাকের জন্য ওয়ার্ক অর্ডার দিতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েছেন।
এদিকে, শিক্ষা দফতরের কর্তারা বলছেন, পোশাকের মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তারা জানান, পোশাকের মাপে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, কিন্তু তা জানালে স্বনির্ভর গোষ্ঠী তা ঠিক করে আবার সরবরাহ করবে।
শিক্ষা দফতরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো, চলতি বছরে কোনও পড়ুয়া যাতে পোশাক না পায়, তা নিশ্চিত করা।” এই কারণে আবার নতুন করে ওয়ার্ক অর্ডারের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
বর্তমানে, পড়ুয়াদের পোশাকের মান ও সরবরাহের সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষা দফতর কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। যদিও প্রধান শিক্ষকদের উদ্বেগ রয়েছে, তবে শিক্ষা দফতর আশ্বাস দিচ্ছে যে, দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।
শিক্ষা দফতরের এই উদ্যোগের ফলে পড়ুয়াদের পোশাকের মান উন্নত হবে এবং অভিভাবকরা সন্তুষ্ট হবেন, এই আশাতেই এগিয়ে চলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে, শীঘ্রই স্কুলগুলিতে পোশাকের সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।