পঞ্চমদাকে আজও ভুলতে পারি না!
হিন্দি চলচ্চিত্রসঙ্গীতের ইতিহাসে এমন কিছু সুরকার আছেন, যাঁদের নাম উচ্চারণ করলেই একের পর এক কালজয়ী সুর মনে ভেসে ওঠে। তাঁদের অন্যতম রাহুল দেব বর্মন, সবার প্রিয় পঞ্চমদা। তাঁর ৮৮তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করলেন জনপ্রিয় গায়ক কুমার শানু। শুধু সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেই নয়, মানুষ হিসেবেও পঞ্চমদা যে কতটা অসাধারণ ছিলেন, সেই স্মৃতিই ভাগ করে নিলেন তিনি।
শৈশব থেকেই পঞ্চমদার গানের ভক্ত ছিলেন কুমার শানু। বিশেষ করে ‘তিসরি মঞ্জিল’-এর গান শুনেই তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জন্মেছিল। পরে রাহুল দেব বর্মন এবং শচীন দেব বর্মন— দু’জনেরই সৃষ্টির একনিষ্ঠ অনুরাগী হয়ে ওঠেন তিনি।
মুম্বইয়ে সংগ্রামের দিনগুলিতে হোটেলে গান গেয়ে সংসার চালাতেন কুমার শানু। সেই সময় নিজের কণ্ঠে পঞ্চমদার গান রেকর্ড করে বিভিন্ন স্টুডিয়োয় পৌঁছে দিতেন। সেই সূত্রেই প্রথম দেখা হয় রাহুল দেব বর্মনের সঙ্গে। প্রথম সাক্ষাতের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি জানান, প্রণাম করার পর পঞ্চমদা বাংলাতেই তাঁকে বলেছিলেন, “বসো, রেকর্ডিং দেখো।” সেই মুহূর্ত আজও তাঁর স্মৃতিতে অমলিন।
এর পর থেকে সুযোগ পেলেই পঞ্চমদার রেকর্ডিং দেখতে স্টুডিয়োয় চলে যেতেন তিনি। কী ভাবে সঙ্গীত পরিচালনা, বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার এবং শিল্পীদের নিয়ে কাজ করতে হয়, তা কাছ থেকে শেখার সুযোগ হয়েছিল। কুমার শানুর মতে, স্টুডিয়োয় উপস্থিত থেকে শেখার জন্যই তাঁকে উৎসাহ দিতেন পঞ্চমদা, যাতে রেকর্ডিংয়ের পরিবেশ তাঁর কাছে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
শুধু সুরকার নয়, মানুষ হিসেবেও রাহুল দেব বর্মন ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক। বাঙালি খাবারের প্রতি তাঁর বিশেষ টান ছিল। নিজে রান্না করে বন্ধু-সহকর্মীদের খাওয়াতে ভালোবাসতেন। কুমার শানু বলেন, পঞ্চমদার হাতে রান্না করা মটনের স্বাদ আজও তাঁর মুখে লেগে রয়েছে। তাঁর কাছে গেলে কখনও খালি হাতে ফেরাতেন না, বরং নিজের পরিবারের সদস্যের মতোই আপ্যায়ন করতেন।
গায়ক আরও জানান, প্রত্যেক শিল্পীর কণ্ঠের স্বাতন্ত্র্য বুঝে গান তৈরি করার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল পঞ্চমদার। কোন শিল্পীর গলায় কোন গান সবচেয়ে ভালো শোনাবে, তা তিনি নিখুঁত ভাবে বুঝতে পারতেন। আজও অনেক সঙ্গীত পরিচালক সেই পথই অনুসরণ করেন।
১৯৯৪ সালের ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’ ছবিতে পঞ্চমদার সুরে গাওয়া ‘এক লড়কি কো দেখা তো অ্যায়সা লগা’ গানটি কুমার শানুর কেরিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। রেকর্ডিংয়ের সময় পঞ্চমদা তাঁকে বলেছিলেন, গানটির প্রতিটি ‘জ্যায়সে’ শব্দ যেন আলাদা আবেগে গাওয়া হয়। সেই নির্দেশ মেনেই গানটি রেকর্ড করেছিলেন তিনি। আজও প্রায় প্রতিটি মঞ্চে গানটি গাইতে হয় এবং সেই সঙ্গে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন প্রিয় সুরকারকে।
তবে একটি আক্ষেপ এখনও রয়ে গিয়েছে কুমার শানুর মনে। ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’-র গান যে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, তা দেখে যেতে পারেননি রাহুল দেব বর্মন। তাঁর বিশ্বাস, পঞ্চমদা আরও কিছু বছর বেঁচে থাকলে ভারতীয় সঙ্গীতজগত আরও অনেক অনন্য সৃষ্টি উপহার পেত।
জন্মবার্ষিকীতে প্রিয় সুরকারকে স্মরণ করে কুমার শানুর একটাই ইচ্ছে— যদি আজ পঞ্চমদার সঙ্গে দেখা হত, তবে প্রথমে তাঁকে জড়িয়ে ধরতেন, তারপর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতেন। আর জন্মদিনের কেক নিজের হাতে খাইয়ে জানাতেন গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?