সে দেশে থাকা ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা
নেপালে চলমান ছাত্র-যুব বিদ্রোহে অস্থির হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে শামিল হচ্ছেন হাজার হাজার তরুণ, তাঁদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে স্কুলপড়ুয়াও। এই প্রেক্ষাপটে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। নয়াদিল্লি জানিয়ে দিয়েছে, নেপালে বসবাসরত ভারতীয়দের যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে এবং সেখানকার প্রশাসনের দেওয়া সব নির্দেশ মেনে চলতে হবে।
মঙ্গলবার সকালে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে নেপালকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং প্রতিবেশী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সোমবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগও জানিয়েছে ভারত। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই সঙ্কটের সমাধান হবে বলে আশা করছে নয়াদিল্লি।
ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, “আমরা গতকাল থেকে নেপালের পরিস্থিতির উপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছি। বহু তরতাজা প্রাণের অকাল মৃত্যু আমাদের ব্যথিত করেছে। আমরা মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।”
এছাড়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, কাঠমান্ডু সহ নেপালের কয়েকটি শহরে কার্ফু জারি রয়েছে। তাই ভারতীয়দের উদ্দেশে অনুরোধ করা হয়েছে— তারা যেন অযথা বাইরে না বেরোন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলেন। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পরিস্থিতি আপাতত অস্থিতিশীল, তাই সাবধান থাকা ছাড়া উপায় নেই।
সোমবারের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কাঠমান্ডুর রাজপথ। নেপালের পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে জড়ো হয় হাজার হাজার তরুণ। তাঁদের মধ্যে অনেক কিশোর-কিশোরীও ছিল, যাঁদের পোশাক দেখে স্কুলপড়ুয়া বলে মনে হয়েছে। শুধু রাজধানী নয়, প্রতিবাদের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছিল নেপালের অন্য শহরগুলোতেও। এই আন্দোলনের জেরে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর।
তবে এই আন্দোলন যে কেবল সমাজমাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে নয়, তা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ, বেকারত্ব, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাধারণ মানুষের অসন্তোষ। নেপালের তরুণ প্রজন্ম মনে করছে, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার যথেষ্ট দায়িত্বশীল নয়। সেই অসন্তোষই সোমবার ফেটে পড়েছিল ভয়ঙ্কর আকারে।
ভারতের উদ্বেগ এখানেই যে, এই আন্দোলন কেবল নেপালের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক অশান্তি ভারতের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক সম্পর্কের কারণে ভারত নেপালের স্থিতিশীলতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আলোচনার মাধ্যমে কি পরিস্থিতি শান্ত হবে? নাকি এই বিক্ষোভ আরও বড় আকার নেবে? আপাতত নয়াদিল্লি আশা করছে, নেপাল সরকার ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান আসবে। আর সেই সময় পর্যন্ত নেপালে থাকা ভারতীয়দের কাছে একটাই বার্তা— সতর্ক থাকুন, সুরক্ষিত থাকুন।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ