নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কলকাতার বাজারে দেদার বিক্রি নিষিদ্ধ বাজি
কলকাতার বিভিন্ন বাজারে নিষিদ্ধ বাজির বিক্রি এক অদ্ভুত রূপ ধারণ করেছে। পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে, শহরের নানা এলাকায় মুক্তভাবে চলছে বাজির ব্যবসা। মঙ্গলবার ময়দানের বাজি বাজার পরিদর্শনে গিয়েছিলেন নগরপাল মনোজ বর্মা। তিনি ফিরে যাওয়ার পরে সেখানে উপস্থিত বিক্রেতারা জানালেন, বাজি বাজারে খদ্দেরের সংখ্যা কম। কিন্তু বাস্তবতা যে এটাই নয়, তা স্পষ্ট।
বাজির ব্যবসার চিত্র
উল্টোডাঙা বাজারের ব্যস্ত রাস্তার পাশে দীর্ঘ টেবিলে সাজানো রয়েছে একের পর এক বাজি। তুবড়ি, চরকি থেকে শুরু করে নিষিদ্ধ শব্দবাজি— সব কিছুই এখানে মিলছে। প্যাকেটগুলোর গায়ে কিউআর কোড রয়েছে, কিন্তু অনেকগুলোরই তা নেই। খদ্দের টানতে বিক্রেতারা মাঝেমধ্যে শব্দবাজির আওয়াজ তুলে প্রলোভন সৃষ্টি করছেন।
শহরে বৈধ চারটি বাজি বাজারের বাইরে অন্যত্র বাজি বিক্রি করা আইনত নিষিদ্ধ। তবুও, উল্টোডাঙা থেকে বেলেঘাটা, কসবা, যোধপুর পার্ক, যাদবপুর, বেহালা, গড়িয়া, নারকেলডাঙা, চাঁদনি চক— সর্বত্রই দেদার বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ বাজি। বড়বাজারের মতো জনপ্রিয় জায়গাতেও বিক্রেতারা তাদের পসরা সাজিয়ে বসেছেন।
পুলিশ ও নাগরিকদের অভিযোগ
অবশ্য, পুলিশি নজরদারির অভাবই বেআইনি বাজির ব্যবসার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন শহরের সচেতন নাগরিকরা। লালবাজার দমকল কেন্দ্রের উল্টো দিকের ফুটপাতেও নিষিদ্ধ বাজির বিক্রি দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ কেজির বেশি বাজি বিক্রির জন্য রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের অনুমতি প্রয়োজন। এছাড়া, ১৫ কেজির কম বাজি বিক্রির জন্যও এমএসএমই ছাড়পত্র থাকতে হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠছে, এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করেই কালীপুজো ও দীপাবলির আগে শহরের নানা জায়গায় চলছে বাজির বিক্রি।
শহরের চারটি স্থানে— টালা, ময়দান, কালিকাপুর এবং বেহালায় বাজি বাজার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ময়দানের বাজার পরিদর্শনের পরে নগরপাল মনোজ বর্মা জানান, সেখানে খদ্দেরের সংখ্যা যথেষ্ট কম। তবে শহরের বিভিন্ন স্থানে সপ্তাহখানেক ধরে নিষিদ্ধ শব্দবাজির ব্যবহার বেড়ে গেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে।
বিক্রেতাদের অভিব্যক্তি
এক ব্যবসায়ী বলেন, “যদি পাড়ার মোড়ে মোড়ে বাজি পাওয়া যায়, তবে কেন মানুষ এখানে আসবে? এর ওপর নজরদারি না থাকায় অনেকেই নিষিদ্ধ বাজি কিনতে দ্বিধা করছেন না। ফলে, শহর জুড়ে নিষিদ্ধ বাজির ব্যবসা বেড়ে চলেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “পুলিশ যদি নজরদারি রাখত, তাহলে অবাধে বাজি বিক্রি করা সম্ভব হতো না।”
এদিকে, লালবাজারের কর্তারা নজরদারির অভাবের অভিযোগ মানতে চাননি। তাদের দাবি, গত এক সপ্তাহে ৩৯৩৪ কেজি নিষিদ্ধ বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লালবাজারের একজন কর্মকর্তা জানান, “প্রতিটি ডিভিশনের বিভিন্ন বাহিনী গোটা এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে। বাজি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি ধরপাকড়ও চলছে।”
এখন প্রশ্ন উঠছে, কেন শহরের বিভিন্ন এলাকায় এই অবাধ বাজার চলে? পুলিশের তরফ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নিষিদ্ধ বাজির ব্যবসা যেন রমরমা করে চলছে। যতদিন প্রশাসন এই ব্যবসাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারবে, ততদিন শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের কারণ থাকবেই।
এখন সময় এসেছে এই সমস্যা সমাধানের। নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। বাজির বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং পুলিশকে আরও কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে। অন্যথায়, শহরের পরিস্থিতি আগামীতে আরও খারাপ হতে পারে।