নিরাপত্তার জেরে বাতিল একাধিক উড়ান!
বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে যাত্রী সুরক্ষাকে সর্বাগ্রে রাখছে বিমান সংস্থাগুলি। সেই কারণেই মঙ্গলবার (১৪ মে) জম্মু, অমৃতসর, চণ্ডীগড়, লেহ, শ্রীনগর ও রাজকোটে সমস্ত উড়ান বাতিল করার সিদ্ধান্ত জানাল ইন্ডিগো। সোমবার সংস্থার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
ইন্ডিগো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। যাঁদের ওইদিন ওই রুটে যাত্রা করার পরিকল্পনা ছিল, তাঁদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপে গিয়ে ফ্লাইট স্টেটাস চেক করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উত্তেজনার ছায়া বিমান পরিষেবায়
বর্তমানে দেশের উত্তর ও পশ্চিম অংশের একাধিক অঞ্চলের আকাশসীমায় বিমান চলাচলের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ফলে জম্মু, কাশ্মীর, পাঞ্জাব, লাদাখ ও গুজরাটের কিছু শহরে বিমান ওঠানামা আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক উড়ানগুলিও পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে ঘুরপথে যাতায়াত করছে। কলকাতা থেকে উড়ানগুলি এখন মুম্বই বা নাগপুর হয়ে আরব সাগর পার করে পশ্চিম এশিয়া বা ইউরোপের দিকে যাচ্ছে।
এতে যেমন বিমান সংস্থাগুলির জ্বালানির খরচ বাড়ছে, তেমনই বেড়েছে সময়ও। সেইসঙ্গে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে কলকাতা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের উপর। পূর্ব এশিয়া থেকে আসা আন্তর্জাতিক উড়ানগুলিও একই কারণে ঘুরপথে আসতে বাধ্য হচ্ছে।
উড়ান বাতিল, কাজের সময় পুনর্বিন্যাস
বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে শুধু রুট নয়, বদলাতে হচ্ছে কর্মীদের সময়সূচিও। এয়ার ইন্ডিয়া ইতিমধ্যেই বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের কাছে পাইলট এবং বিমানকর্মীদের কাজের সময় পুনর্বিন্যাসের অনুমতি চেয়েছে।
এরই পাশাপাশি আরও বড় পদক্ষেপ হিসেবে ১৫ মে পর্যন্ত উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য ভারতের ২৭টি বিমানবন্দর পুরোপুরি বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি হয়েছে। এই বিমানবন্দরগুলি থেকে বা সেখানে পৌঁছনোর কোনও অসামরিক বিমান ওড়ানো যাচ্ছে না। এর ফলে দৈনিক গড়ে প্রায় ৪০০টি উড়ান বাতিল হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। শুধু কলকাতা বিমানবন্দর থেকেই দিনে ১০-১২টি ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে।
যাত্রীদের সতর্ক থাকার বার্তা
পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী কয়েক দিন এই ভোগান্তি চলতে পারে। তাই বিমানযাত্রীদের বারবার সতর্ক করা হচ্ছে—উড়ান রয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত না হয়ে যেন কেউ বিমানবন্দরে না যান। প্রয়োজনে ইন্ডিগো বা অন্যান্য সংস্থার কাস্টমার কেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেও বলা হয়েছে।
বিরাট কোহলির বিদায়: এক অধ্যায়ের সমাপ্তি, রেখে গেলেন প্রশ্নের রেশ