নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কোটি টাকার কারবার! পাইকারি থেকে খুচরো বাজারে বিক্রি হত প্রশ্নপত্র

নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কোটি টাকার কারবার!! নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। পরীক্ষা বাতিল করেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ), আর তদন্তে নেমেছে সিবিআই। প্রাথমিক…

May 13, 2026
1 min read

নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কোটি টাকার কারবার!!

নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। পরীক্ষা বাতিল করেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ), আর তদন্তে নেমেছে সিবিআই। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, এই প্রশ্নফাঁসের পিছনে ছিল অত্যন্ত সংগঠিত এবং বহুস্তরীয় একটি চক্র, যার আর্থিক লেনদেন প্রায় ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

তদন্তকারীদের মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি অনেকটা ব্যবসার মতোই পরিচালিত হত। প্রশ্ন সরাসরি পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছত না। বরং পাইকারি এবং খুচরো— দু’ধরনের আলাদা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া হত। রাজস্থান, হরিয়ানা, কেরল, জম্মু-কাশ্মীর, তেলঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশ পর্যন্ত এই চক্রের প্রভাব ছড়িয়েছিল বলে সূত্রের দাবি।

এই চক্রের কাঠামো অনেকটা পিরামিডের মতো। একেবারে উপরের স্তরে থাকত মূল ‘মাথা’ বা পরিচালকেরা। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রশ্নপত্র ছাপানো বা পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত কোনও না কোনও জায়গায় তাদের যোগাযোগ ছিল। তারাই প্রথমে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করত এবং সরাসরি ছাত্রদের কাছে না পৌঁছে সেটি বিক্রি করত ‘পাইকারি বাজারে’।

এই পাইকারি স্তরে থাকত বিভিন্ন অঞ্চলের ‘কিংপিন’ বা বড় দালালেরা। কোটা, সিকার, পটনার মতো কোচিং-কেন্দ্রিক শহরগুলিতে এদের সক্রিয়তা বেশি ছিল। অনেক ক্ষেত্রে ছোট কোচিং সেন্টার বা হস্টেলের মালিকেরাও এই চক্রের অংশ হয়ে উঠতেন। পরীক্ষার কয়েক দিন আগে থেকেই তাঁরা ধনী বা প্রভাবশালী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করতেন।

সূত্রের দাবি, একজন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হত প্রশ্নপত্রের জন্য। ফলে মূল চক্রের কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে প্রশ্ন কিনে দালালেরা বিপুল লাভ করত। মাত্র কয়েক জন ‘গ্রাহক’ পেলেই কোটি টাকার ব্যবসা হয়ে যেত।

এর পরের স্তরে থাকত তথাকথিত ‘সলভার’ দল। সাধারণত মেধাবী পড়ুয়া বা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রদের দিয়ে দ্রুত প্রশ্নের উত্তর তৈরি করানো হত। সেই কাজের জন্য তাদের ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হত। পরে সেই উত্তরপত্র বিভিন্ন মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হত।

সবচেয়ে নীচের স্তরে থাকত ‘ডেলিভারি এজেন্ট’-রা। পরীক্ষার সময় যত এগিয়ে আসত, প্রশ্নের দামও তত কমে যেত। তদন্তে জানা গিয়েছে, পরীক্ষার আগের রাতে টেলিগ্রাম বা অন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকাতেও প্রশ্ন বিক্রি হয়েছে বলে সন্দেহ।

এই গোটা ঘটনায় সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, প্রশ্নফাঁস এখন শুধু অপরাধ নয়, একটি সুসংগঠিত ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তি, ভুয়ো অ্যাকাউন্ট, ক্রিপ্টোকারেন্সি— সব কিছু ব্যবহার করে এই চক্র নিজেদের আড়াল করার চেষ্টা করত। ফলে শুধু পরীক্ষা বাতিল নয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *