নিজেদের লোকের উপর বোমা ফেলার মধ্যেই মানবাধিকার শেখাচ্ছে পাকিস্তান? ভারতের কড়া বার্তা জাতিসংঘে

ভারতের কড়া বার্তা জাতিসংঘে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কাউন্সিলে সোমবার অনুষ্ঠিত অধিবেশনে পাকিস্তানকে নিশানায় এনে তীব্র সমালোচনা করেছে ভারত। নাম না করে ইসলামাবাদকে বিঁধে ভারতীয় প্রতিনিধি ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেছেন, “নিজেদের লোকের উপরে…

September 24, 2025
1 min read

ভারতের কড়া বার্তা জাতিসংঘে

রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কাউন্সিলে সোমবার অনুষ্ঠিত অধিবেশনে পাকিস্তানকে নিশানায় এনে তীব্র সমালোচনা করেছে ভারত। নাম না করে ইসলামাবাদকে বিঁধে ভারতীয় প্রতিনিধি ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেছেন, “নিজেদের লোকের উপরে বোমা ফেলা থেকে ফুরসত পেলে তারা মানবাধিকার রক্ষায় নজর দিক।”

ত্যানিক ত্যাগী আরও বলেন, “একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে এই মঞ্চের অপব্যবহার করছে। তাদের উচিত অবৈধভাবে দখল করা ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে সরে আসা। পাশাপাশি নিজেদের ‘লাইফ সাপোর্টে’ থাকা অর্থনীতি, সেনার হস্তক্ষেপে বিধ্বস্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং মানবাধিকারের অবক্ষয় দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া। তবে এ সব করতে পারবে যদি তারা সন্ত্রাস ছড়ানো এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের ঘোষিত জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করে এবং নিজেদের লোকদের উপর বোমা ফেলা থেকে বিরতি নেয়।”

সম্প্রতি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে একটি বিস্ফোরণে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু অন্তর্ভুক্ত। এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) সক্রিয়। পাকিস্তানের পুলিশ জানিয়েছে, জঙ্গিদের ডেরায় রাখা বোমা ফেটে বিস্ফোরণ ঘটে, যদিও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই দাবি করেছে, এটি পাক সেনার হামলার ফল। তবে পাকিস্তানি প্রশাসন এই দাবিকে অস্বীকার করেছে।

ভারতীয় কূটনীতিকরা আরও উল্লেখ করেছেন, শুধু সন্ত্রাস নয়, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতাও উদ্বেগের। রাজনীতিতে সেনার হস্তক্ষেপ, দুর্বল অর্থনীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো সমাধান না করলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অন্যের উপর অভিযোগ তোলা তাদের জন্য কেবল ছদ্মবেশের কাজ।

ভারত দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গে পাকিস্তানকে বারবার নিশানা করেছে। অপারেশন সিঁদুর এবং ভারত-পাক সংঘর্ষের পর এই তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজ়েশন (এসসিও)-এর বৈঠকেও পাকিস্তানকে তীব্রভাবে সমালোচনা করা হয়েছে।

এদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ সম্প্রতি মরক্কো সফরে স্থানীয় ভারতীয়দের সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, “পাক অধিকৃত কাশ্মীর খুব শীঘ্রই ভারতের অংশ হবে। সেখানকার মানুষ ইতিমধ্যেই সেই দাবি তুলতে শুরু করেছেন। পাঁচ বছর আগে আমি কাশ্মীর উপত্যকায় ভারতীয় সেনার সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলাম, পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল করতে আমাদের আক্রমণ করার দরকার নেই। তা এমনিতেই আমাদের হবে এবং সেই দিন আসতে চলেছে।”

সংক্ষেপে, রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কাউন্সিলে ভারতের বক্তব্য স্পষ্ট: নিজের দেশেই মানুষের উপর সহিংসতা চালানো বন্ধ করুন, তারপরই অন্যের মানবাধিকার নিয়ে আলোকপাতের কথা ভাবুন। পাকিস্তানকে সতর্ক করেছে নয়াদিল্লি, যে তারা যদি নিজেদের ভিতরে স্থিতিশীলতা ও মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত না করে, তাহলে আন্তর্জাতিক সমালোচনা থেকে রেহাই পাবে না।

ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *