নারী পাচারের ‘চেষ্টা’য় ধৃত যুবক
শনিবার রাতে নারীর পাচারের চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে আটক করার পর নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডে উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাটি গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন সন্ধ্যা বাজারে ঘটে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই যুবক বিকাশ সর্দারকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং পুলিশের উপস্থিতির পরও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনায় পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভও দেখা যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকাশ সর্দার নামের ওই যুবক একটি মহিলাকে পাচারের চেষ্টা করছিল। মহিলাটি চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে বিকাশকে ধরে ফেলে। তারপর, তাকে বাজারের একটি বাতিস্তম্ভে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দা এবং অটোচালকরা তাদের ঘিরে ধরেন এবং পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পুলিশ আরও বাহিনী নিয়ে এসে অভিযুক্ত বিকাশকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত বিকাশ সর্দারের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে। রাজমিস্ত্রির কাজের সূত্রে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল ওই এলাকায়। তবে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাজারের অবৈধ ব্যবসা ও দুষ্কৃতীদের জন্য ওই জায়গাটি এক ধরনের ‘মুক্তাঞ্চল’ হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পর থেকে মহিলাদের উদ্দেশ্যে কটূক্তি, প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি, এবং সাট্টার রমরমা চলতে থাকে। এছাড়া, সেখানে নারী পাচারের আড়কাঠি-ও সক্রিয় হয়ে ওঠে, এমনও অভিযোগ উঠেছে।
এলাকার বাসিন্দাদের মতে, এই অবৈধ বাজারের কারণে সন্ধ্যার পর মহিলাদের যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাঁরা জানান, একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রায় ৬৫০ জন বাসিন্দা স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র নরেন্দ্রপুর থানায় জমা দেওয়া হলেও, তার ফল মেলেনি। স্থানীয় সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম জানান, এমন অভিযোগ তাঁর কাছে আসেনি, তবে অভিযোগ পেলে তিনি পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। তবে, তিনি স্বীকার করেন যে ওই এলাকার পুরপ্রতিনিধি তাঁর ঘনিষ্ঠ।
এলাকাবাসীদের দাবি, ওই অবৈধ বাজার এবং অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে স্থানীয় এলাকায় যানজটের সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাঁরা অভিযোগ করেন যে, এই সমস্ত কাজকর্মের মদত দিচ্ছে বিধায়ক-ঘনিষ্ঠ এক পুরপ্রতিনিধি এবং কিছু ব্যবসায়ী। স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার জন্য তাঁরা ক্ষুব্ধ। যদিও বিধায়ক জানান, তিনি এই বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য রেল ও রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার মধ্যে সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পের চুক্তি হলেও, এই বাজারের উচ্ছেদে কোনো অগ্রগতি হয়নি। যদিও, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন এবং পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ একাধিক বার বাজারটি উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে, তবে বিধায়কের বাধায় সেই কাজ বাস্তবায়িত হয়নি।
পল্লব দাস, রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার চেয়ারম্যান, জানিয়েছেন যে তিনি ওই বাজার নিয়ে বাসিন্দাদের অভিযোগপত্র পেয়েছেন, এবং সেই অভিযোগ পুলিশকে পাঠানো হয়েছে। শনিবারের ঘটনার পর, তিনি বলেন যে সকল অভিযোগের তদন্ত করা হবে এবং বিধায়ক ও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ প্রশাসনের কাছে একটি বড় সংকটের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে জনগণের নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।