৫০ আলোকবর্ষ দূরে ‘মৃত’ গ্রহ ঘিরে নতুন রহস্যে মুগ্ধ বিজ্ঞানীরা!
মহাকাশে এমন এক গ্রহের সন্ধান মিলেছে, যা যেন ধীরে ধীরে আগুনে পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। নেই জল, নেই বায়ুমণ্ডল, নেই প্রাণের কোনও সম্ভাবনাও। শুধু জ্বলন্ত পাথুরে ভূমি আর অসহনীয় উত্তাপ। পৃথিবী থেকে প্রায় ৫০ আলোকবর্ষ দূরে থাকা এই গ্রহটিকে ঘিরেই এখন তুমুল উৎসাহ বিজ্ঞানীমহলে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এই তথ্য। গ্রহটির নাম এলএইচএস ৩৮৪৪বি। আকারে এটি পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বড়। তবে তার পরিবেশ একেবারেই ভিন্ন। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি একটি “মৃতপ্রায়” বা কার্যত নিষ্ক্রিয় গ্রহে পরিণত হয়েছে।
এই গ্রহটি একটি লাল বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে। যদিও সেই নক্ষত্র সূর্যের তুলনায় অনেক ছোট, তবুও গ্রহটির সঙ্গে তার দূরত্ব এতটাই কম যে প্রবল তাপে ঝলসে গিয়েছে পুরো পৃষ্ঠ। মাত্র ১১ ঘণ্টায় এক বার নক্ষত্রকে পাক খেয়ে আসে এলএইচএস ৩৮৪৪বি। অর্থাৎ, নক্ষত্রের এত কাছাকাছি অবস্থান করছে যে তার বায়ুমণ্ডল বহু আগেই উবে গিয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, গ্রহটির এক দিক সবসময় নক্ষত্রের দিকে মুখ করে থাকে। ফলে সেই অংশে কখনও রাত নামে না। অন্য দিকটি আবার চিরকাল অন্ধকারে ডুবে থাকে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আলোকিত অংশের তাপমাত্রা প্রায় ১০০০ কেলভিন পর্যন্ত পৌঁছতে পারে, যা অত্যন্ত ভয়াবহ।
প্রথম দিকে গবেষকদের একাংশ মনে করেছিলেন, এই গ্রহে হয়তো পৃথিবীর মতো টেকটোনিক কার্যকলাপ রয়েছে। অর্থাৎ, ভূত্বকের নীচে সক্রিয় পরিবর্তন ঘটছে। কিন্তু পরে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণে সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়। বর্তমানে বিজ্ঞানীদের অনুমান, গ্রহটির পৃষ্ঠ মূলত ব্যাসল্ট শিলা দিয়ে তৈরি— যা আগ্নেয় লাভা জমে তৈরি হয়। পৃথিবীর ম্যান্টলের সঙ্গেও এর কিছু মিল রয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই গ্রহের দু’টি সম্ভাব্য অবস্থা থাকতে পারে। এক, এটি এখনও ভূতাত্ত্বিক ভাবে সামান্য সক্রিয়। দুই, এটি সম্পূর্ণ মৃত ও ক্ষয়প্রাপ্ত একটি গ্রহ, যার উপর বছরের পর বছর ধরে তেজস্ক্রিয়তা ও উল্কাপিণ্ডের আঘাত পড়েছে। দ্বিতীয় সম্ভাবনাটিই বেশি জোরালো বলে মনে করা হচ্ছে।
এই আবিষ্কারের পর অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে— আমাদের সৌরজগতের বুধ গ্রহের ভবিষ্যৎও কি এমন হতে পারে? কারণ, সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকা গ্রহ বুধের সঙ্গেও এলএইচএস ৩৮৪৪বি-র কিছু মিল রয়েছে। যদিও বিজ্ঞানীরা এখনই নিশ্চিত কোনও উত্তর দিচ্ছেন না। তবে তাঁরা মনে করছেন, এই ধরনের গ্রহ নিয়ে গবেষণা ভবিষ্যতে সৌরজগতের বিবর্তন বুঝতে সাহায্য করবে।
বিজ্ঞানীদের আশা, আরও উন্নত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই রহস্যময় গ্রহ সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আসবে। মহাকাশের অজানা জগৎ যে এখনও কত বিস্ময়ে ভরা, এলএইচএস ৩৮৪৪বি যেন তারই আর এক প্রমাণ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?