ধর্মতলায় বাসস্ট্যান্ড থেকে উদ্ধার লক্ষ লক্ষ ‘টাকা’
খাস কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায় বৃহস্পতিবার সকালে ঘটে গেল এক চমকপ্রদ ঘটনা। সেখানকার একটি বাসস্ট্যান্ড থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ ‘টাকা’। প্রাথমিক হিসাবে, প্রায় তিন লক্ষ টাকা পাওয়া গেছে, যা দেখতে ৫০০ টাকার নোট বলে মনে হলেও পুলিশের সন্দেহ, এগুলি জাল। ঘটনাস্থলেই ‘টাকা’ গোনার কাজ শুরু করেছেন পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর সদস্যরা।
কীভাবে উদ্ধার হল এই ‘টাকা’?
বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ধর্মতলার একটি বাসস্ট্যান্ডে অভিযান চালায়। তখনই মানোয়ার শেখ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। জানা গেছে, মানোয়ার মালদহের কালিয়াচক থেকে কলকাতায় এসেছিলেন। তাঁর কাছ থেকেই এই বিপুল পরিমাণ নোট উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের ধারণা, এই নোটগুলি কলকাতা থেকে অন্য কোথাও পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
জাল নোট চক্রের সন্দেহ
লালবাজার সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া নোটগুলি দেখতে অবিকল আসল টাকার মতো হলেও, এগুলি আসলে জাল হতে পারে। বিশেষত ৫০০ টাকার নোটের ক্ষেত্রে জালিয়াতির ঘটনা অনেক সময় শোনা যায়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই ঘটনার নেপথ্যে জাল নোট চক্রের সক্রিয় সদস্যরা রয়েছে। মানোয়ার শেখকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
তদন্তে নামল পুলিশের বিশেষ টিম
পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার হওয়া নোটগুলি পরীক্ষা করার জন্য বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিচ্ছে। পাশাপাশি, মানোয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, যাতে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের নাম প্রকাশ করা যায়। কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই জাল নোটগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছে এবং কোথায় পাচার করার পরিকল্পনা ছিল, তা জানার জন্য মানোয়ারের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত যোগাযোগের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
কালিয়াচক সংযোগ
মানোয়ার শেখ মালদহের কালিয়াচক থেকে এসেছেন, যা জাল নোটের একটি কুখ্যাত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কালিয়াচক থেকে কলকাতা হয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জাল নোট সরবরাহের একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। মানোয়ারের গ্রেফতারের পর পুলিশ সেই নেটওয়ার্কের একটি বড় সূত্র ধরে ফেলতে পারে বলে আশা করছে।
আদালতে তোলা হবে অভিযুক্তকে
ধৃত মানোয়ারকে বৃহস্পতিবারই আদালতে পেশ করা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হবে, যাতে তাঁকে আরও বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়। পুলিশের ধারণা, মানোয়ার শেখের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের অন্য সদস্যদের খোঁজ চালানো সহজ হবে।
পুলিশের সতর্কবার্তা
কলকাতা পুলিশের তরফে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জাল নোট শনাক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি রয়েছে। ব্যাঙ্ক বা অনুমোদিত স্থানে নোট যাচাই করে নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। বিশেষত ৫০০ এবং ২০০০ টাকার নোটের ক্ষেত্রে এই ধরনের জালিয়াতি বেশি দেখা যায়।
কলকাতায় জাল নোট চক্রের নতুন দিক
এই ঘটনায় ধর্মতলায় জাল নোট চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কলকাতা শহর এত দিন ধরে জাল নোটের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত থাকলেও, শহরের একেবারে কেন্দ্রে এত বিপুল পরিমাণ নোট উদ্ধারের ঘটনা বিরল। পুলিশের মতে, শহরের মধ্যে এই ধরনের কার্যকলাপ চক্রের সাহসিকতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ
পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ধৃত মানোয়ার শেখ ছাড়াও, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগে থাকা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া নোটগুলি বিশ্লেষণের জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে পাঠানো হবে। এছাড়া, জাল নোটের এই চক্রের মূল মাথাকে ধরতে রাজ্যজুড়ে অভিযান চালানো হতে পারে।
ধর্মতলার এই ঘটনায় একদিকে যেমন শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই পুলিশ এই চক্রকে