ধর্মতলায় বাম-‘ককরোচ’!
নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির আন্দোলনের আঁচ এ বার স্পষ্ট কলকাতায়। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলনের সমর্থনে শুক্রবার ধর্মতলায় বাম ছাত্র সংগঠনগুলির বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি, জুতো-ইট-বোতল ছোড়াছুড়ি এবং র্যাফ নামানোর ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য কার্যত অচল হয়ে পড়ে ধর্মতলা চত্বর।
পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের মিছিলে ‘বহিরাগত’ ঢুকে পড়ার অভিযোগ ঘিরেই প্রথমে আন্দোলনকারীদের নিজেদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে সেই পরিস্থিতিই আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও আন্দোলনকারীদের একাংশের অভিযোগ, পুলিশ জোর করে মিছিল সরানোর চেষ্টা করায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
দুপুর থেকেই শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বাম ছাত্র সংগঠনগুলির উদ্যোগে মিছিল শুরু হয়। এসএফআই, এআইডিএসও, আইসা-সহ একাধিক ছাত্র সংগঠনের পতাকায় ভরে ওঠে শহরের রাজপথ। তাঁদের মূল দাবি ছিল নিট-সহ সর্বভারতীয় পরীক্ষাগুলিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
মিছিল ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছতেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে পুলিশ তাঁদের রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের দিকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। সেই সময়েই শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের দিক থেকে ইট, জুতো এবং জলের বোতল ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় র্যাফ।
পুলিশের দাবি, তারা লাঠিচার্জ করেনি। কেবল দুই পক্ষকে আলাদা করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই লাঠি হাতে এগিয়ে যেতে হয়েছিল। যদিও ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে পুলিশকে লাঠি উঁচিয়ে আন্দোলনকারীদের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়।
এই সংঘর্ষে কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। তবে দীর্ঘ সময় ধর্মতলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরুদ্ধ থাকায় যান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। বিকেল প্রায় ৪টা থেকে বন্ধ থাকা রাস্তা সন্ধ্যা পৌনে ৭টা নাগাদ খুলে দেওয়া হলেও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগে।
দিল্লিতে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। কলকাতাতেও কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে সংগঠনের সমর্থকেরা কলকাতা পুলিশের কাছে একাধিক বার আবেদন করেছিলেন। প্রথম আবেদন খারিজ হওয়ার পর ২৪ জুলাই কলেজ স্ট্রিট থেকে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি চেয়ে ফের আবেদন করা হয়। সেই আবহেই শুক্রবারের এই বিক্ষোভ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াল।
ধর্মতলার সংঘর্ষের পর আন্দোলনকারী এবং পুলিশের দাবি-পাল্টা দাবিকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঠিক কী কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেল, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?