বাংলাদেশ নিয়ে কবিতায় প্রতিবাদ শাকিব আল হাসানের!
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যাঁর নাম সবচেয়ে উজ্জ্বল, সেই শাকিব আল হাসান এখন দেশের মাটিতে নেই। থাকেন আমেরিকায়, পরিবার নিয়ে। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আদালতে মামলা চলছে, রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর থেকে বিতর্কও কম হয়নি। তবু দেশের বর্তমান অশান্ত পরিস্থিতি তাঁকে নীরব থাকতে দেয়নি। ব্যাট বা মাইক্রোফোন নয়—এ বার কবিতার ভাষায় নিজের ক্ষোভ, যন্ত্রণা আর প্রশ্ন তুলে ধরলেন শাকিব।
বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখা সেই কবিতায় শাকিব শুধু উৎসবের বার্তা দেননি, তুলে ধরেছেন রক্তাক্ত বাস্তবতা। রাজশাহীর মাসুদ, টাঙ্গাইলের মোমিন, দীপু দাস, ওসমান হাদি, গোপালগঞ্জের দীপ্ত সাহার মতো নাম উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। একের পর এক সহিংস ঘটনায় যেসব শিশু অনাথ হয়ে পড়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েই মূলত প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক।
শাকিব লিখেছেন, এই শিশুরা ধর্ম বোঝে না, রাজনীতিও বোঝে না। তবু রাজনীতির আগুনে তারাই সবচেয়ে বেশি পুড়ছে। তাঁর কবিতায় বারবার ফিরে এসেছে একটি ভাবনা—এই দেশ কি সত্যিই শিশুদের জন্য নিরাপদ? নাকি প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমরা তাদের সামনে রেখে যাচ্ছি শুধু ভয়, অনিশ্চয়তা আর হিংসার উত্তরাধিকার?
কবিতার মধ্য দিয়েই তিনি সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন দেশের মানুষের দিকে—
“শিশুর বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে আমরা কি সত্যিই দায়িত্বশীল আচরণ করছি?”
এই প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে আছে শাকিবের উদ্বেগ, অপরাধবোধ আর হয়তো অসহায়ত্বও। কারণ তিনি জানেন, দেশ থেকে দূরে থেকেও এই বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
ক্রিকেটার শাকিব যেমন বাংলাদেশের অহংকার, তেমনই রাজনীতিতে পা রাখার পর তাঁর জীবন জুড়ে এসেছে একের পর এক বিতর্ক। তিনি ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের সাংসদ। সেই পরিচয়ের কারণেই একাংশের বিরাগভাজন হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা চলছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। চেক জালিয়াতির মামলায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিজ়, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। সেপ্টেম্বরে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পর সমালোচনা আরও তীব্র হয়।
এই সবের মধ্যেই শাকিব একাধিক বার প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন দেশের মানুষের কাছে। জানিয়েছিলেন, দেশের মাটিতে শেষ বার খেলে অবসর নিতে চান। সেই ইচ্ছা এখনও অপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর বাংলাদেশে ফেরা কার্যত অসম্ভব।
তবু দূর থেকেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন—দেশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। হয়তো আজ তিনি স্টেডিয়ামে নেই, সংসদেও নেই। কিন্তু কবিতার কয়েকটি পংক্তির মধ্য দিয়ে শাকিব আল হাসান আবারও প্রমাণ করলেন, দেশের যন্ত্রণা তাঁকে এখনও স্পর্শ করে। আর সেই যন্ত্রণা থেকেই জন্ম নেয় এমন প্রশ্ন, যা এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই।