দেব বললেন: ‘ধূমকেতু’ আমার জীবনের লড়াই!
মুক্তির আগে রাতভর জেগে থাকা, প্রযোজকের চাপ, প্রচারের পরিকল্পনা— সব মিলিয়ে দেবের জীবনে ‘ধূমকেতু’ যেন এক অনন্য অভিজ্ঞতা। দশ বছরের লড়াই শেষে অবশেষে পর্দায় এসেছে এই ছবি। দেবের চোখেমুখে তাই ক্লান্তি থাকলেও মনে ভরপুর তৃপ্তি।
দেব স্পষ্টই বললেন, “পৃথিবীতে কোথাও হয়নি, দশ বছর আগে তৈরি একটা ছবি আজ দর্শকের সামনে এভাবে মুক্তি পেল। প্রচার, প্রেক্ষাগৃহ পাওয়া— প্রতিটি ধাপে যুদ্ধ করতে হয়েছে। হল ভরবে তো? সকালের শোতে লোকে আসবে তো? এসব চিন্তায় ঘুমই আসেনি।”
তবু দর্শকের ভরসা তাঁকে শক্তি দিয়েছে। সকাল সাতটার শোতেও ছিল ভিড়। পাশে চলছে হিন্দি ব্লকবাস্টার, তবুও বাংলার ছবির প্রতি দর্শকের ভরসা দেবকে ভীষণ তৃপ্ত করেছে।
দেবের কথায়, “ধূমকেতু নিজের ভাগ্য নিয়ে জন্মেছে। যত বাধা এসেছে— প্রযোজকের সঙ্গে ঝামেলা, সম্পর্কের ভাঙাগড়া— সব পেরিয়ে আজ মুক্তি পেয়েছে। মনে হচ্ছে, আগেই বেরোলে হয়তো এমন সাফল্য পেত না।”
বাংলা সিনেমার দর্শক যে পাল্টাচ্ছেন, সে কথাও বললেন দেব। “যাঁরা ‘পাগলু’ দেখে বড় হয়েছেন তাঁরাও পরিণত হয়েছেন। শুধু গান-নাচ নয়, ভাল গল্পও চান। তাই ‘খাদান’ কিংবা ‘ধূমকেতু’তে সব বয়সি দর্শক ভিড় করছেন। দর্শক এখন রিভিউ পড়ে ছবি দেখতে আসেন।”
অভিনেতা হিসেবে নিজের থেকেও সহ-অভিনেতাদের কৃতিত্ব দিচ্ছেন দেব। রুদ্রনীলের প্রসঙ্গে তাঁর খোলামেলা মন্তব্য— “ও অনেক দৃশ্যে আমাকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ওকে আরও কাজ করা উচিত। রাজনীতি থাকুক, কিন্তু অভিনয়ও চালিয়ে যাক। ও জাতীয় পুরস্কারের যোগ্য।”
নন্দনে ছবি না দেখানোর প্রসঙ্গেও অকপট দেব। অতীতে অভিমান থাকলেও আজ তিনি অনেক পরিণত। “তখন ছোট ছিলাম। আজ বুঝেছি, সময়ের সঙ্গে শেখা জরুরি। এবার থেকে নন্দনেও চলছে ‘ধূমকেতু’।”
প্রচার নিয়ে দেবের সহজ স্বীকারোক্তি— “আসলে বেশি প্রচার করতে পারিনি। শুধু ট্রেলার লঞ্চ, নৈহাটিতে বড়মার পুজো, আর নজরুল মঞ্চে শুভশ্রীর সঙ্গে উপস্থিতি। দর্শকেরা তাতেই উজ্জীবিত হয়েছেন। আসলে আগের ছবিও আমার, পরেরটাও আমার। কোথায় কতটা সময় দেব সেটা ভাবতে হয়।”
শুভশ্রীর সঙ্গে একসঙ্গে মঞ্চে ওঠা নিয়েও তিনি খোলাখুলি বললেন, “আমাদের সম্পর্ক ঘিরে অনেক ভুল বোঝাবুঝি ছিল। সেটা দূর করার সুযোগ নিয়েছি। অতীতের ভাল মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছি শুধু দর্শকের জন্য।”
ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গে রুক্মিণীর নামও উঠে এল। দেব বললেন, “প্রথম দিন থেকে ও পাশে আছে। গত কয়েক দিন ধরে ও-ও একটাই প্রশ্ন করেছে, ‘তুমি খুশি তো?’ কারণ জানে, এই ছবিতে আমি আমার অহংকার, সম্মান, লড়াই— সবটা ঢেলে দিয়েছি।”
আগামী মাসেই আসছে দেবের আরেক ছবি ‘রঘু ডাকাত’। তাই চিন্তা রয়ে গেছে, আগের সাফল্য কি নতুন ছবিকে ঢেকে দেবে? তবে দেব আত্মবিশ্বাসী— “ভাল কনটেন্ট থাকলে দর্শক আসবেই। আমি চাই প্রতিটা ছবি আগের চেয়ে বড় হোক।”
সব শেষে দেবের স্পষ্ট কথা— “আমি আমার একমাত্র প্রতিযোগী। ডান-বাম না দেখে শুধু সামনে এগোচ্ছি। লক্ষ্য একটাই, নিজের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি করা।”