দেবস্মিতা পাল খুনকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য!!
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা Debosmita Pal খুনের তদন্তে নেমে একের পর এক বিস্ময়কর তথ্যের মুখোমুখি হচ্ছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত দম্পতি রামপ্রসাদ ও বনশ্রী দাসের বর্ধমানের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এমন কিছু সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, যা গোটা তদন্তকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ঘড়ি, একশোরও বেশি পোশাক, জাল নোট এবং একাধিক ভুয়ো পরিচয়চিহ্ন উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশ এবং রেলের টিকিট পরীক্ষক (টিসি)-র নামে তৈরি একাধিক ভুয়ো ব্যাজ। তদন্তকারীদের মতে, এগুলি কোনও সাধারণ সংগ্রহ নয়; এর পিছনে বড়সড় প্রতারণা বা জালিয়াতি চক্রের যোগ থাকতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল উদ্ধার হওয়া নোটের বান্ডিলগুলি। পুলিশ জানিয়েছে, বান্ডিলের উপরে এবং নীচে আসল নোট থাকলেও মাঝখানে ছিল সাদা কাগজ। এই কৌশল সাধারণত আর্থিক প্রতারণার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ফলে অভিযুক্তরা কোনও সংগঠিত প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়াও বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল সংখ্যক ঘড়ি ও পোশাকের উৎস সম্পর্কেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি অভিযুক্তরা। তদন্তকারীরা এখন সেই সমস্ত সামগ্রীর উৎস অনুসন্ধান করছেন।
দিল্লি পুলিশ ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ যৌথভাবে এই মামলার তদন্ত চালাচ্ছে। দিল্লি পুলিশের বিশেষ কমিশনার Devesh Chandra Srivastava জানিয়েছেন, ২০০-রও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেফতারি এড়াতে অভিযুক্ত দম্পতি অন্তত তিন বার পোশাক বদল করেছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের দাবি, দিল্লিতে পৌঁছনোর পর এক বার, খুনের ঘটনার পর আর এক বার এবং শহর ছাড়ার আগে আরও এক বার পোশাক পরিবর্তন করেন তাঁরা। খুনের পর ট্যাক্সিতে আনন্দ বিহার স্টেশনে গিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করেন, পরে অটোয় নয়াদিল্লি রেলস্টেশনে পৌঁছে ফের পোশাক বদলান। বর্ধমানে ফিরে সরাসরি বাড়ি না গিয়ে ঘুরপথে যান, যাতে নজর এড়ানো যায়।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে পূর্ব দিল্লির Vasundhara Enclave এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় দেবস্মিতা পালের রক্তাক্ত দেহ। মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি তাঁর হাতের শিরা কাটা ছিল। তিনি একাই থাকতেন এবং Shivaji College-এ অধ্যাপনা করতেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, বর্ধমানে দেবস্মিতার পৈতৃক বাড়িতে দীর্ঘদিন ভাড়াটে হিসেবে থাকতেন অভিযুক্ত দম্পতি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই খুনের ছক কষা হয়েছিল। এখন জাল নোট, ভুয়ো ব্যাজ এবং অন্যান্য উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর সূত্র ধরে তদন্ত আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?