দীপ্তির পাঁচ উইকেট, স্মৃতি-রিচার ঝড়!!
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। আর বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই উত্তেজনার মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তবে বার্মিংহ্যামে মহিলাদের টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত একতরফাই লড়াই দেখা গেল। ব্যাটে স্মৃতি মন্ধানা ও রিচা ঘোষের ঝলক, আর বলে দীপ্তি শর্মা ও শ্রী চরণির দাপটে পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারিয়ে দুর্দান্তভাবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত।
১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরুটা কিন্তু আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই করেছিল। ওপেনার মুনিবা আলি এবং গুল ফিরোজ়া দ্রুত রান তুলছিলেন। ভারতের দুই পেসার অরুন্ধতী রেড্ডি ও ক্রান্তি গৌড় শুরুতে লাইন-লেংথ ঠিক রাখতে না পারায় পাকিস্তান পাওয়ার প্লের সুবিধা কাজে লাগাতে সক্ষম হয়। চার ওভারে ৩৮ রান তুলে ফেলেছিল তারা।
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দীপ্তি শর্মা। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর তাঁর হাতে বল তুলে দিতেই প্রথম সাফল্য আসে। ১২ রানের মাথায় ফিরোজ়াকে ফিরিয়ে দেন তিনি। যদিও পাওয়ার প্লে শেষে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৫২ রান, যা টি-২০ বিশ্বকাপে তাদের ইতিহাসে পাওয়ার প্লের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
মুনিবা আলি এবং আয়েশা জ়াফরের জুটি কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও সেই সম্ভাবনাও দ্রুত শেষ করে দেন দীপ্তি। আয়েশাকে ফেরানোর পাশাপাশি নিজের দুরন্ত ফিল্ডিংয়েও নজর কাড়েন তিনি। সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট করেন সেট হয়ে যাওয়া মুনিবাকে, যিনি ৪১ রান করে খেলছিলেন। সেই মুহূর্তেই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় পাকিস্তান।
এরপর ভারতের স্পিন আক্রমণ পাকিস্তানের ব্যাটিংকে পুরোপুরি চাপে ফেলে দেয়। দীপ্তি, শ্রী চরণি এবং শ্রেয়াঙ্কা পাতিলের ঘূর্ণির সামনে রান তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। পাকিস্তানের ব্যাটাররা চার ওভারের বেশি সময় কোনও বাউন্ডারিই মারতে পারেননি। চাপ বাড়তে থাকায় একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে।
হরমনপ্রীত পরিস্থিতি বুঝে শেফালি বর্মাকেও বল হাতে আনেন। তিনিও অধিনায়ক ফাতিমাকে ফিরিয়ে দলের সাফল্যে অবদান রাখেন। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১০৬ রানে। ১৭ ওভারেই অলআউট হয়ে যায় তারা।
বল হাতে ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্স আসে দীপ্তি শর্মার কাছ থেকে। চার ওভারে মাত্র ১০ রান খরচ করে ৫ উইকেট তুলে নেন তিনি। শ্রী চরণিও দুর্দান্ত বোলিং করে ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন।
এর আগে ভারতের বড় রানের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন স্মৃতি মন্ধানা এবং রিচা ঘোষ। তাঁদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং পাকিস্তানের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড় করিয়ে দেয়, যার চাপ শেষ পর্যন্ত সামলাতে পারেনি প্রতিপক্ষ।
তবে জয়ের মাঝেও ভারতের কিছু উদ্বেগ থেকে যাচ্ছে। দুই পেসার প্রত্যাশামতো ছন্দে ছিলেন না। এছাড়া উইকেটের পিছনে রিচা ঘোষের পারফরম্যান্সও প্রশ্নের মুখে। তিনি দুটি সহজ ক্যাচ ফেলেছেন এবং একটি রান আউটের সুযোগ নষ্ট করেছেন। শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে এমন ভুল বড় মূল্য চোকাতে বাধ্য করতে পারে।
তবু সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের শুরুটা ভারতের জন্য নিখুঁত। ব্যাট, বল এবং ফিল্ডিং— তিন বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিল হরমনপ্রীত কৌরের দল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?