দিদির ১৫ বছরের মন্ত্রিসভা!
পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানা ১৫ বছরের শাসনকাল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা কম হয়নি। উন্নয়ন, জনমুখী প্রকল্প, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ— সব কিছু নিয়েই যেমন প্রশংসা হয়েছে, তেমনই উঠেছে সমালোচনার ঝড়ও। তবে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে মন্ত্রিসভার মান ও কার্যকারিতা নিয়ে।
দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পরেও এমন কয়েক জন মন্ত্রীকে খুঁজে বের করা, যাঁদের কাজ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্দ্বিধায় ইতিবাচক ধারণা রয়েছে— সেটাই নাকি সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন প্রশাসনিক মহল ও আমলাদের সঙ্গে কথা বলে একটি তালিকা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সেই তালিকায় শেষ পর্যন্ত ছ’জনের বেশি জায়গা পাননি।
এই ছ’জনকেও আবার দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম সারিতে রয়েছেন এমন দু’জন, যাঁরা যে কোনও রাজনৈতিক দলের মন্ত্রিসভাতেই নিজের দক্ষতায় জায়গা করে নিতে পারতেন বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, দফতর সামলানোর ক্ষমতা এবং কাজের ধারাবাহিকতায় তাঁরা অন্যদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে।
অন্য দিকে বাকি চার জনকে নিয়ে মূল্যায়ন কিছুটা সংযত। তাঁরা হয়তো অসাধারণ নন, কিন্তু মন্ত্রিসভার সামগ্রিক মানের তুলনায় বেশি কার্যকর এবং দায়িত্বশীল বলেই মনে করা হয়েছে। অর্থাৎ, তুলনামূলক বিচারে তাঁরা উজ্জ্বল।
এই মূল্যায়নে ব্যঙ্গের সুরও স্পষ্ট। ক্রিকেটের আইপিএলের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, প্রথম দু’জন মূল দলে খেলার মতো মানের হলেও বাকি চার জন হয়তো রিজার্ভ বেঞ্চে জায়গা পেতে পারেন। আর বাকিদের ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনাও নাকি খুব কম।
তবে এই ধরনের তালিকা বা মূল্যায়ন স্বাভাবিক ভাবেই বিতর্ক তৈরি করবে। কারণ, প্রশাসনিক সাফল্য বিচার করার মাপকাঠি একেক জনের কাছে একেক রকম। কেউ উন্নয়নমূলক কাজকে গুরুত্ব দেবেন, কেউ আবার রাজনৈতিক দক্ষতা বা জনসংযোগকে। ফলে এই তালিকাকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে না দেখে, বরং একটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ হিসেবেই দেখা ভাল।
একটি বিষয় অবশ্য স্পষ্ট— দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা যে কোনও সরকারের ক্ষেত্রেই প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে। তাই মানুষের নজর শুধু মুখ্যমন্ত্রীর দিকে নয়, তাঁর টিমের প্রতিও থাকে। সেই জায়গা থেকেই এই মূল্যায়নের জন্ম।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিন দফার সরকারে অনেক মুখ এসেছে, অনেকেই আবার সময়ের সঙ্গে হারিয়েও গিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে ক’জন সত্যিই নিজেদের কাজের ছাপ রেখে যেতে পেরেছেন, সেই প্রশ্ন এখনও রাজনৈতিক মহলে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা