তৃতীয় পরিচয়ে দ্বিতীয় বার রাজ্যসভায় ঋতব্রত
২০১৪ সালে রাজ্যসভায় প্রথমবার নির্বাচিত হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ে সিপিএমের তরফ থেকে তাকে পাঠানো হয়েছিল, এবং তার পাশে ছিলেন প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, যিনি ঋতব্রতকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। তবে, তার রাজনীতি শুরু থেকেই ছিল অদ্ভুত, কখনো তিনি সিপিএমের সাংসদ, কখনো ছিলেন ‘দলহীন’ এবং পরে আবার তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য। এবার, এক দশক পরে, তিনি রাজ্যসভায় ফের ফিরছেন, তবে এবার তার পরিচয় একেবারে ভিন্ন।
২০১৭ সালে সিপিএম তাকে বহিষ্কার করার পর ঋতব্রত ‘দলহীন সাংসদ’ হিসেবে রাজ্যসভায় কাজ করেছিলেন। কিন্তু তার জন্য এটাই ছিল শুধুমাত্র প্রথম পরিচয়। তার পর ২০২০ সালে, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর তার রাজনৈতিক কৌশল সম্পূর্ণ বদলে যায়। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর, ঋতব্রতকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে, তাকে অবশ্যই ‘কথা কম, কাজ বেশি’ কৌশল অনুসরণ করতে হবে, এবং তিনি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। এর ফলে, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে পড়েন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তার কঠোর পরিশ্রম এবং সততা দেখে তাকে আবার রাজ্যসভায় মনোনীত করেন।
এবার, ৪৫ বছর বয়সী ঋতব্রত রাজ্যসভায় যাচ্ছেন তৃতীয় পরিচয়ে। তার এই ‘তৃতীয় পরিচয়’ শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিভাষায় নয়, তার কর্মপরিচয়ে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে রাজ্যসভায় মনোনীত করার পর, দলের মধ্যে তার এই কৃতিত্ব নিয়ে কোনও দ্বিমত ছিল না। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, ঋতব্রত একদিন না একদিন সফল হবেন, কারণ তার কঠোর পরিশ্রমের ফল সবসময় মেলে।
তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর, ঋতব্রত শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির সভাপতি পদে নিযুক্ত হন এবং সেই সংগঠনের মধ্যে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব দূর করতে সক্ষম হন। উত্তরবঙ্গের চা বাগান এলাকায় তার প্রচেষ্টা তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনকে শক্তিশালী করার পথে এক বড় পদক্ষেপ ছিল। তার এই অর্জন তাকে দলের অন্দরে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছিল।
ঋতব্রতের এই কর্মধারা তাকে দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও ‘বিশ্বাসী’ ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মমতার সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবে চমৎকার। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার প্রতি আস্থা রাখেন। এই সমীকরণ তৃণমূলের অন্দরের রাজনীতির অনেক রহস্য উন্মোচন করেছে।
ঋতব্রতের রাজ্যসভায় ফের নির্বাচিত হওয়া তার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার এক নতুন দিগন্ত। তার নেতৃত্বে, তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনে যেমন সফলতা এসেছে, তেমনি তার রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তার কারণে তাকে দলের নতুন প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার এই নতুন পরিচয় আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এক নতুন সাফল্য বয়ে আনবে, এই আশা এখন দলের ভিতরে ব্যাপকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে।
সংগঠনের দিক থেকে, ঋতব্রতের দক্ষতা অনেকের কাছেই প্রশংসিত। তার সাংগঠনিক দক্ষতা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তাকে দেশের রাজনীতিতে একটি বিশেষ স্থান করে দিয়েছে। তিনি যে ভাষায় বক্তৃতা দেন, তা অত্যন্ত মসৃণ এবং প্রভাবশালী। তার একান্ত পরিশ্রমই তাকে রাজ্যসভায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নতুন পরিচয় শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং সংগঠনের মধ্যে গড়ে তোলা সম্পর্কের ভিত্তিতে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তার এই সফলতা আগামী দিনে তাকে রাজনীতিতে আরও উঁচু মঞ্চে স্থান দিতে পারে, যা দেশের রাজনীতিতে নতুন এক প্রেক্ষাপট তৈরি করবে।