‘তুরুপের তাস’ সাক্ষী
২৬/১১ মুম্বই হামলার মূল অভিযুক্ত তাহাউর রানা এখন এনআইএ-র জালে। আর তাঁকে জেরা করতে এনআইএ তুলে রেখেছে এক ‘রহস্যময়’ সাক্ষীকে—যিনি শুধু গুরুত্বপূর্ণ নন, গোটা তদন্তে হতে পারেন ‘গেম চেঞ্জার’। যেকোনো দিন রানার সামনে হাজির করানো হবে তাঁকে। মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করলে উঠে আসতে পারে বহু গোপন তথ্য—যা এতদিন অজানাই ছিল গোয়েন্দাদের কাছে।
🎭 কে এই ‘সংরক্ষিত সাক্ষী’?
সূত্রের দাবি, এই সাক্ষী রানা এবং ডেভিড হেডলির ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মানুষ। এমনকি হেডলি যখন ২০০৬ সালে মুম্বইয়ে এসেছিল, তখন এই সাক্ষীই তার থাকার বন্দোবস্ত করেছিলেন। শুধু তাই নয়, হেডলিকে স্থানীয়ভাবে নানা রকম সাহায্যও করেছিলেন তিনি। এরপর রানা এবং হেডলির মধ্যে যে হামলার ছক তৈরি হয়, তাতে এই সাক্ষীর জ্ঞাতসারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতেই পারে বলে ধারণা এনআইএ-র।
তদন্তকারীদের মতে, রানার সামনে এই ব্যক্তিকে বসালে তিনি হয়তো ভেঙে পড়বেন, দিতে পারেন এমন কিছু তথ্য যা মুম্বই হামলার বহু অজানা দিক স্পষ্ট করবে। তাই এই সাক্ষীকে ঘিরে রীতিমতো বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা, গোপন রাখা হয়েছে তাঁর পরিচয়। এমনকি আদালতের নথিতেও তাঁর নাম উল্লেখ নেই।
🇮🇳 রানার প্রত্যর্পণ, এক বড় জয়
তাহাউর রানা পাক বংশোদ্ভূত হলেও বর্তমানে কানাডার নাগরিক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছিলেন আমেরিকার জেলে। ভারত তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য বহু বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। অবশেষে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে এসে পৌঁছন রানা, বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে এনআইএ।
🏛️ এখন কোথায় রানা?
রানাকে বৃহস্পতিবার রাতেই বিশেষ এনআইএ আদালতে পেশ করা হয়, এবং আদালত ১৮ দিনের জন্য তাঁকে এনআইএ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। বর্তমানে দিল্লির এনআইএ সদর দফতের একটি নিরাপত্তাবেষ্টিত ঘরে রাখা হয়েছে রানাকে। ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে তাঁকে এবং প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় একবার করে তাঁর শারীরিক পরীক্ষাও হচ্ছে।
🔐 কেন এত গোপনীয়তা?
এই তদন্তে যতটা গুরুত্ব পাচ্ছে রানা, ঠিক ততটাই গুরুত্ব পাচ্ছে এই ‘সংরক্ষিত সাক্ষী’। তাঁর পরিচয় প্রকাশ্যে এলে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি, বিশেষ করে লশকর-এ-তইবা, তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে—এই আশঙ্কায় বিশেষ নিরাপত্তার চাদরে রাখা হয়েছে তাঁকে।
🔍 কী হতে চলেছে এবার?
তদন্তের পরবর্তী ধাপে যদি সত্যিই রানা ও এই সাক্ষীকে মুখোমুখি বসানো হয়, তাহলে ভারতের মাটিতে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলার (২৬/১১) পেছনের অনেক অজানা গল্প উঠে আসতে পারে। এনআইএ বলছে, এই সাক্ষী শুধু রানা নয়, গোটা হামলার ছক সম্পর্কে এমন কিছু জানেন যা এতদিন তদন্তের বাইরে ছিল।
এই জেরা থেকে উঠে আসা তথ্য নতুন করে ঘোরাতে পারে আন্তর্জাতিক তদন্তের চাকা। এখন শুধু অপেক্ষা—কবে মুখোমুখি হবেন রানা ও সেই ‘তুরুপের তাস’ সাক্ষী?
চুম্বন নয়, কবিতার ছোঁয়ায় প্রেম ফুটল শ্রাবন্তীর খোলা পিঠে!