তুরস্ক সফরে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান, নয়াদিল্লির নজরে ঢাকা-আঙ্কারা ঘনিষ্ঠতা! নেপথ্যে কি পাকিস্তানের কৌশল?

তুরস্ক সফরে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান! বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সাম্প্রতিক তুরস্ক সফর ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাঁচ দিনের এই সরকারি সফরে তিনি তুরস্কের সামরিক প্রশিক্ষণ,…

July 24, 2026
1 min read

তুরস্ক সফরে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান!

বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সাম্প্রতিক তুরস্ক সফর ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাঁচ দিনের এই সরকারি সফরে তিনি তুরস্কের সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং আধুনিক অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা ঘুরে দেখেছেন। বিশেষ করে ড্রোন, আর্টিলারি এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নিয়ে আগ্রহ দেখানোয় ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সূত্রের খবর, বাংলাদেশ ও তুরস্ক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার পথে এগোচ্ছে। গত মাসে তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদানের ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রক পর্যায়ে যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তার পরপরই সেনাপ্রধানের এই সফর সেই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

এই সফরকে ঘিরে ভারতের কৌশলগত মহলেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এর মধ্যেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তুরস্ক সফরের অল্প কিছু দিনের মধ্যেই বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের আঙ্কারা যাত্রা নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনও সরকারি সূত্রই পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ ভূমিকার কথা বলেনি।

কে এই জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান?

১৯৬৬ সালে ঢাকায় জন্ম ওয়াকার-উজ-জামানের। বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি মিরপুরের ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ এবং ব্রিটেনের জয়েন্ট সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে উচ্চতর সামরিক শিক্ষা লাভ করেন। পরে কিংস কলেজ লন্ডন থেকে প্রতিরক্ষা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের আত্মীয়। তাঁর স্ত্রী সারাহনাজ কমলিকা জামান শেখ হাসিনার খুড়তুতো বোন বলে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ২০২৪ সালে হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা সেনাপ্রধান হিসেবেই করেছিলেন ওয়াকার। পরে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলেও তাঁকে সেনাপ্রধান পদে বহাল রাখা হয়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সফর?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাজারে তুরস্কের প্রভাব দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তিতে দেশটির সাফল্য বহু দেশের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ তুরস্কের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় যৌথ উদ্যোগে ড্রোন উৎপাদনের পরিকল্পনার খবরও প্রকাশ্যে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ঢাকা-আঙ্কারার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হলে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণে তার প্রভাব পড়তে পারে। আবার অন্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের সেনাপ্রধানের বিদেশ সফরকে সরাসরি কোনও সামরিক জোট বা নির্দিষ্ট ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ।

ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে নয়াদিল্লির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল ও ইতিবাচক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখা। কারণ, শক্তিশালী প্রতিবেশী সম্পর্কই বহিরাগত প্রভাবের সম্ভাবনা কমাতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *