প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে গেল কেকেআর!
কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য শনিবার রাতটা হতাশার চূড়ান্ত ছিল। বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে যে ম্যাচটির দিকেই তাকিয়ে ছিল কোটি কোটি ভক্তের নজর, সেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্সের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়ে গেল। একটিও বল মাঠে না গড়াতেই, শেষ হয়ে গেল অজিঙ্ক রাহানের দলের প্লে-অফ স্বপ্ন।
শনিবার সকাল থেকেই বেঙ্গালুরুর আকাশ ছিল ভারী মেঘে ঢাকা। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা মেনেই বৃষ্টি শুরু হয় দুপুরের পর। ক্রমাগত বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ে টস করাও সম্ভব হয়নি। রাত ন’টা নাগাদ বৃষ্টি সাময়িকভাবে থামলেও, কিছুক্ষণ মাঠ শুকনোর কাজ চলার পর ফের নামে ঝুম বৃষ্টি। অবশেষে রাত ১০টা ২০ মিনিটে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।
এই ম্যাচ থেকে একটি পয়েন্ট পেল কলকাতা, অর্থাৎ ১৩ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ দাঁড়াল ১২ পয়েন্টে। কিন্তু প্লে-অফে যেতে হলে তাদের প্রয়োজন ছিল এই ম্যাচে জয় এবং পরবর্তী ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে জয়। তাও নিশ্চিত হতো না রাহানেদের ভাগ্য—তখনও তাকিয়ে থাকতে হত অন্য দলের ফলাফলের দিকে। কিন্তু সবকিছুই অনর্থক হয়ে গেল বেঙ্গালুরুর বৃষ্টিতে। গতবারের চ্যাম্পিয়নরাই এবার প্লে-অফে উঠতে পারল না।
অন্যদিকে, বেঙ্গালুরুর সামনে এখনো প্লে-অফের দরজা খোলা রয়েছে। ১২ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা পয়েন্ট টেবিলের উঁচু দিকেই রয়েছে। বাকি রয়েছে আরও দুটি ম্যাচ—২৩ মে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে এবং ২৭ মে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে। এই দুই ম্যাচের যেকোনো একটি জিতলেই শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত হবে কোহলিদের।
বিরাট কোহলির ক্ষেত্রেও এই ম্যাচটি ছিল বিশেষ। টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণার পর প্রথমবার মাঠে নামার কথা ছিল তাঁর। ভক্তদের একাংশ তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে সাদা ১৮ নম্বরের জার্সি পরে মাঠে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু খেলা না হওয়ায় হতাশ হয়েই ফিরতে হল তাদের।
প্রসঙ্গত, ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তেজনার কারণে গত ৯ মে থেকে আইপিএল এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত ছিল। সেই বিরতির পর শনিবারই ছিল আইপিএলের প্রত্যাবর্তন। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের দিনেই প্রকৃতির চরম বাধায় মুখ থুবড়ে পড়ল আকাঙ্ক্ষিত সেই ম্যাচটি। বৃষ্টি শুধু ম্যাচটাই নয়, কলকাতার স্বপ্নকেও ভাসিয়ে নিয়ে গেল।
এখন চোখ বেঙ্গালুরুর পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে—কোহলি বাহিনী কি পারবে শেষ চারে জায়গা করে নিতে? উত্তর দেবে সময়। তবে আপাতত কেকেআর ভক্তদের মনে রয়ে গেল একরাশ হতাশা আর অসমাপ্ত স্বপ্নের আক্ষেপ।
সরস্বতী নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা কাগজেই সীমাবদ্ধ? বাস্তব কাজ এখনও অধরা