তিরুপতিতে হুড়োহুড়িতে ছয় ভক্তের মৃত্যু
তথ্য এবং সংবাদে একাধিক বার শিরোনামে উঠে আসা তিরুপতি মন্দিরের ঘটনাটি আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল। গত বুধবার রাতে মন্দিরের বাইরে বিশাল ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে ছয় ভক্তের মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বৈকুণ্ঠ একাদশীর দর্শনের প্রস্তুতি পর্বে, যখন ভক্তরা দর্শনের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি করেছিলেন।
কী ঘটেছিল তিরুপতিতে?
তিন দিনব্যাপী বৈকুণ্ঠ একাদশী উৎসবের শুরুতে, দর্শনের জন্য মন্দির কর্তৃপক্ষ ১ লাখ ২০ হাজার টোকেন বিলি করার প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে, বুধবার সকাল থেকেই টোকেন সংগ্রহের জন্য ভক্তদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সন্ধ্যা আসতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, এবং তখনই মন্দিরের বাইরে প্রায় ৪ হাজারেরও বেশি ভক্ত উপস্থিত ছিলেন। সংবাদে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টোকেন বিলির সময় আচমকা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, যার ফলে হুড়োহুড়ি শুরু হয় এবং পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ছয় জনের।
এ বিষয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম দর্শনম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বিআর নায়ডুর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালেই তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

কর্তৃপক্ষের সাফাই: বিশৃঙ্খলার কারণ কী?
তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, বৈকুণ্ঠ একাদশী উপলক্ষে পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু তবুও কেন এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এত বড় ভিড়ের জন্য তারা একটি মাত্র কাউন্টার খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এক মহিলা ভক্তের অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য স্কুলের একটি গেট খোলা হয়েছিল। কিন্তু, সেই সুযোগে কিছু ভক্ত জোর করে গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে গিয়ে পরিস্থিতি আরো অশান্ত হয়ে ওঠে।
তবে এরই মধ্যে রাজনৈতিক নেতারা এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন এবং নিহত ভক্তদের পরিবারে সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়াল-সহ একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন।
ভিড়ের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি?
পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা ভক্তদের মধ্যে অনেকেই এই ঘটনা শুনে গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তিরুপতি মন্দির সাধারণত তার শৃঙ্খলা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিচিত, কিন্তু এ বার কেন এই বিপর্যয় ঘটল, তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ১ লক্ষ ২০ হাজার টোকেন বিলি করার প্রস্তুতি হলেও বাস্তবে মন্দির কর্তৃপক্ষের ধারণা ছিল না যে ভিড় এত বেশি হবে।
মন্দির কর্তৃপক্ষ ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছেন যে তারা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি এবং টোকেনের ব্যবস্থা আরও সুচারু ভাবে করার চেষ্টা করবেন ভবিষ্যতে।
অন্যত্র শোকপ্রকাশ এবং পুলিশি পদক্ষেপ
মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এমন একটি পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য ভবিষ্যতে আরও উন্নত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পুলিশও ঘটনার পরপরই ব্যবস্থা নিলেও, ভিড় নিয়ন্ত্রণে যে ত্রুটি ছিল তা স্বীকার করা হয়েছে। এদিকে, স্থানীয় জনগণ এবং শ্রীবৈকুণ্ঠ একাদশী উপলক্ষে আগত ভক্তদের মধ্যে হতাশা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, মন্দির কর্তৃপক্ষ, রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
‘সত্যি সামনে আসবেই’: যুজবেন্দ্র চহাল এবং ধনশ্রী বর্মার বিবাহবিচ্ছেদের জল্পনার মাঝে ধনশ্রীর পোস্ট