তারাতলা দুর্ঘটনার পর বড় সিদ্ধান্ত!
তারাতলায় গুদামের ছাদ ধসের মর্মান্তিক ঘটনার পর কলকাতা জুড়ে নির্মাণকাজ নিয়ে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, কলকাতা পুর এলাকার সমস্ত নির্মীয়মাণ প্রকল্পের কাজ আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের নকশা, নিরাপত্তা এবং নির্মাণের মান খতিয়ে দেখা হবে।
বুধবার তারাতলায় একটি গুদামের লোহা ও কংক্রিটের কাঠামো ভেঙে পড়ে অন্তত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৮ জন। এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে কয়েক জন আটকে রয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে অনুমোদন পাওয়া সমস্ত নির্মীয়মাণ বাড়ি ও বহুতলের কাজ আপাতত স্থগিত রাখা হবে। রাজ্যের পূর্ত দফতর, অসামরিক প্রতিরক্ষা, দমকল, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল গঠন করা হবে। তারা প্রতিটি প্রকল্পের নকশা ও নির্মাণ পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, যেসব প্রকল্পে সমস্ত নিয়ম মেনে কাজ হয়েছে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও ত্রুটি পাওয়া যাবে না, সেগুলিকে ১ অগস্ট থেকে ফের কাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
বিশেষ করে বাণিজ্যিক নির্মাণ এবং জলাশয় ভরাট করে তৈরি হওয়া প্রকল্পগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘প্রতিটি নির্মাণের অডিট করা হবে। কোথাও কোনও গাফিলতি বা নিয়মভঙ্গ হয়েছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে।’’
শুধু কলকাতাতেই নয়, ভবিষ্যতে একই ধরনের পর্যালোচনা হাওড়া এবং বিধাননগর পুর এলাকাতেও করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তারাতলার দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে শুভেন্দু জানান, যে গুদামটির কাঠামো ভেঙে পড়েছে, তার নকশা চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি কলকাতা পুরসভা অনুমোদন করেছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের ধারণা, নির্মাণ নকশাতেই কিছু ত্রুটি ছিল। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
দুর্ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিবারের জন্য কী ধরনের ক্ষতিপূরণ এবং সহায়তা দেওয়া হবে, সেই বিষয়েও শিগগিরই ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে।
উদ্ধারকাজে দ্রুততার জন্য দমকল, অসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী, এনডিআরএফ এবং সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের কাছে জল ও অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
তারাতলার এই দুর্ঘটনা শহরের নির্মাণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সেই কারণেই ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে সব নির্মাণ প্রকল্পের নিরাপত্তা ও নিয়ম মেনে কাজ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?