ছেলে নমশিকে যে জীবনের পাঠ দিলেন মিঠুন চক্রবর্তী!
তারকাসন্তান মানেই বিলাস, দামি গাড়ি আর সহজ রাস্তা— এই ধারণা ভাঙতেই যেন উঠে-পড়ে লেগেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। ছোট ছেলে নমশি চক্রবর্তীর অভিনয়জীবনের শুরুতেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, বাবার পরিচয় সঙ্গে নিয়ে এগোনো চলবে না। অভিনয়ের জগতে জায়গা করে নিতে হলে লড়াইটা করতে হবে একেবারে নিজের মতো করেই।
২০২০ সালে সাজিদ কুরেশি প্রযোজিত ‘ব্যাড বয়’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন নমশি। পরে সম্প্রতি বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত ‘দ্য বেঙ্গল ফাইল্স’-এও দেখা গিয়েছে তাঁকে। যদিও এখনও পর্যন্ত অভিনয়ে বড় কোনও সাফল্য তাঁর ঝুলিতে আসেনি। দাদা মহাক্ষয় চক্রবর্তীর ক্ষেত্রেও ছবিটা খুব আলাদা ছিল না। তারকাপুত্র হয়েও বড়পর্দায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ছোট ছেলের ক্ষেত্রে আরও বাস্তববাদী হয়ে উঠেছিলেন মিঠুন— এমনটাই মনে করছেন অনেকে।
নমশি নিজেই এক সাক্ষাৎকারে শোনালেন তাঁর অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের এক স্মরণীয় ঘটনার কথা। ২০১৬ সালে প্রথম বার অডিশনের ডাক পান তিনি। সেই দিন বাবার নির্দেশ ছিল একেবারে স্পষ্ট— মার্সিডিজ়ে চেপে নয়, অটোয় করেই যেতে হবে অডিশনে। মিঠুন ছেলেকে বলেছিলেন, “আজ আমার ছেলে যাচ্ছে না। আজ যাচ্ছে একজন নতুন অভিনেতা— নমশি চক্রবর্তী।”
মিঠুনের বাড়ি মুম্বই শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, মাড আইল্যান্ডে। শহরে যেতে হলে জেটিতে চেপে জলপথ পার করতেই হয়। নমশির কথায়, সেদিন তাঁকে প্রথমে অটো করে জেটি, তারপর নৌকায় ঘাট পেরিয়ে আবার অটো ধরতে হয়েছিল। কোনও বিলাসিতা নয়, কোনও বিশেষ সুবিধাও নয়— ঠিক যেমনটা হয় হাজার হাজার নতুন অভিনেতার ক্ষেত্রে।
নমশি বলেন, ওই দিনটাই তাঁর জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বাবার এই সিদ্ধান্ত তাঁর কাঁধ থেকে অদ্ভুত একটা চাপ নামিয়ে দিয়েছিল। তিনি আর ‘মিঠুন চক্রবর্তীর ছেলে’ নন, তিনি একজন স্বাধীন মানুষ— নিজের লড়াই নিজেকেই লড়তে হবে। সেই অডিশনটি ভাল হলেও কাজটা শেষ পর্যন্ত পাননি তিনি। তবে সেই ব্যর্থতা নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই বলেই জানালেন নমশি।
বরং তাঁর মতে, বাবার এই কঠোর কিন্তু বাস্তব শিক্ষা তাঁকে মানসিক ভাবে অনেক বেশি শক্ত করেছে। তারকাপুত্রের মোড়ক খুলে সাধারণ একজন শিল্পী হয়ে ওঠার এই পথটাই হয়তো ভবিষ্যতে তাঁকে সত্যিকারের অভিনেতা হিসেবে গড়ে তুলবে— এমনটাই বিশ্বাস নমশির।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই