বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে ঘিরে মঙ্গলবার রাত থেকে ছড়িয়ে পড়ে এক অদ্ভুত ঘটনা। ফেসবুকে তাঁর ভেরিফায়েড প্রোফাইলে দেখা যাচ্ছে ‘রিমেম্বারিং’ লেখাটি, যা সাধারণত প্রয়াত ব্যক্তিদের প্রোফাইলে দেখা যায়। এর ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে বিভ্রান্তি এবং চাঞ্চল্য, অনেকে মনে করেন তিনি হয়তো মারা গিয়েছেন।
ভিসা সমস্যা ও বর্তমান পরিস্থিতি:
তসলিমা নাসরিন ২০১১ সাল থেকে টানা দিল্লিতে বসবাস করছেন। তবে সম্প্রতি, তাঁর ভারতীয় ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল ২৭ জুলাই, ২০২৪-এ। একাধিকবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায়, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানান। অবশেষে, তাঁর ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু এর মধ্যে ঘটে যায় ফেসবুকের এই অদ্ভুত ঘটনাটি।

ফেসবুকের ‘রিমেম্বারিং’ বিভ্রান্তি:
ফেসবুকে তসলিমার প্রোফাইলের ‘রিমেম্বারিং’ ট্যাগটি দেখার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় জল্পনা। বাংলাদেশের একটি ফেসবুক গ্রুপে তসলিমার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে, বিভিন্ন পেজ থেকেও দাবি করা হয় তিনি মারা গিয়েছেন। যদিও বাস্তবে তসলিমা নাসরিন সুস্থ আছেন, ফেসবুকের এই ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। তসলিমা নাসরিনের ভক্ত এবং সমর্থকরা এই ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েন।
তসলিমার প্রতিক্রিয়া:
মঙ্গলবার দুপুরে তসলিমা এক্স (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করে সকলকে জানান যে তিনি বেঁচে আছেন। ফেসবুকে তাঁর প্রোফাইলে ভুলবশত ‘রিমেম্বারিং’ দেখানো হচ্ছে এবং তিনি মেটা কর্তৃপক্ষের কাছে এই ফিচারটি সরিয়ে দিতে অনুরোধ করেছেন। তার এই পোস্টের পর ভক্তরা কিছুটা স্বস্তি পেলেও, ফেসবুকের এই বিভ্রান্তি অনেকের মধ্যেই উদ্বেগের জন্ম দেয়।
মৃত্যুর গুজবের প্রভাব:
এ ধরনের ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ফলে শুধুমাত্র তসলিমা নাসরিনের ফ্যানদের মধ্যেই নয়, সাধারণ মানুষ এবং সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ার কারণে বেশ কিছুক্ষণ ধরে ভীষণ গুজব তৈরি হয়েছিল। তবে তসলিমার নিশ্চিতকরণের পর সেই গুজব স্তিমিত হয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, মেটা কত দ্রুত এই ভুল ফিচারটি সরিয়ে নিয়ে আসে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।