তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি!
ক্যানসার আর শুধুই বয়স্কদের রোগ নয়—এই ধারণা এখন পুরনো। গবেষণা বলছে, ক্যানসারে আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই তরুণ বয়সী। প্রতি পাঁচ জন রোগীর মধ্যে একজনের ক্যানসার ধরা পড়ছে ৩৫ বছরের নিচে। এই উদ্বেগজনক প্রবণতা নিয়ে কথা বলেছেন চিকিৎসকরা। তাঁদের মতে, এর পেছনে প্রধান কারণ আমাদের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস।
কেন তরুণদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে?
১. অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস:
বর্তমান প্রজন্ম প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি খুব বেশি নির্ভরশীল। বার্গার, পিৎজা, সসেজের মতো খাবার প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত প্রক্রিয়াজাত মাংসের মধ্যে এমন রাসায়নিক থাকে, যা মানবদেহে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। এর ফলে শিশুকালেই মেয়েদের ঋতুস্রাব শুরু হয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তী সময়ে স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে।
২. শরীরচর্চার অভাব:
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা সরাসরি কোলন, অগ্ন্যাশয় এবং স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। ছোট বয়স থেকে শারীরিক অনুশীলনের অভাব ভবিষ্যতে মেটাবলিক সিনড্রোমের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা ক্যানসারের জন্ম দেয়।
৩. দেরিতে সন্তানধারণ ও স্তন্যপান না করানোর প্রবণতা:
বর্তমান সময়ে মহিলারা অনেক দেরিতে প্রথম সন্তান গ্রহণ করছেন এবং অনেকেই সন্তানকে স্তন্যপান করাতে চান না। এই অভ্যাসও স্তন ক্যানসারের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
৪. তামাক ও অ্যালকোহলের ব্যবহার:
তামাকজাত দ্রব্য যেমন সিগারেট, গুটখা বা জর্দার অতিরিক্ত ব্যবহার মুখ, গলা ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। শুধু বয়স্ক নয়, ১৮-২৫ বছরের তরুণরাও এই সমস্যায় আক্রান্ত।
৫. স্বাস্থ্যপরীক্ষায় উদাসীনতা:
যত সহজে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে আজকাল ক্যানসারের স্ক্রিনিং টেস্ট করা যায়, ততই মহিলারা বা পুরুষরা সচেতন নন। বিশেষ করে মহিলারা প্যাপ স্মিয়ার বা ম্যামোগ্রাম করাতে খুবই অনাগ্রহী, যা জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার নির্ণয়ে বড় বাধা।

ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে কী কী পরিবর্তন প্রয়োজন?
১. খাদ্যাভ্যাসে বদল:
ক্যানসার প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাসে ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার, যেমন দানাশস্য, সবজি, ফল এবং বাদাম যোগ করতে হবে। কৃত্রিম রং এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।
২. নিয়মিত শরীরচর্চা:
শরীর সুস্থ রাখতে দিনে অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা অত্যন্ত জরুরি। হাঁটা, দৌড়ানো বা যোগব্যায়াম সব বয়সের মানুষের জন্য উপকারী।
৩. তামাক ও মদ্যপান ছাড়া:
ধূমপান এবং মদ্যপান সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করা ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।
৪. নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা:
৩০ পেরোলে নিয়মিত কিছু স্ক্রিনিং করানো বাধ্যতামূলক। মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে স্তন পরীক্ষা, প্রতি বছর ম্যামোগ্রাম এবং প্যাপ টেস্ট করানো উচিত। পুরুষদের প্রস্টেট টেস্ট এবং পিএসএ (প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন) টেস্ট করানো উচিত।
৫. ত্বকের যত্ন ও সুরক্ষা:
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বকের সুরক্ষা খুবই প্রয়োজন। সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং অতিরিক্ত রোদে না থাকার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
কোন ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে?
১. স্তন ক্যানসার:
মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। দেরিতে সন্তানধারণ, স্তন্যপান না করানো, ওবেসিটি—সবই এর কারণ।
২. জরায়ুমুখ ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসার:
অসচেতন যৌনজীবন, ঋতুস্রাবের সময় পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির অতিরিক্ত ব্যবহার এ ক্ষেত্রে দায়ী।
৩. মুখ ও গলার ক্যানসার:
তামাকজাত দ্রব্য ও অ্যালকোহলের কারণে এর প্রকোপ বাড়ছে।
৪. কোলন ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার:
অনিয়ন্ত্রিত খাবার, বিশেষত ফাইবারের অভাব এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে এই ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে।
সতর্কতা এবং ভবিষ্যৎ ভাবনা
ক্যানসার প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো ‘প্রিভেনশন অঙ্কোলজি’—অর্থাৎ ক্যানসারের জন্য দায়ী অভ্যাস ত্যাগ করা। পাশাপাশি, ‘আর্লি ডিটেকশন’ বা প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসার নির্ণয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
যাঁদের পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা আনা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষার অভ্যাস গড়ে তোলাই ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর প্রধান উপায়।
‘চোখ তুলে দেখো না কে এসেছে’: বিয়ের আসরে নাচে মাতলেন রুবেল! লাজুক শ্বেতা