ঢাকাই মসলিন
বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতা এবং সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগে, এবার ভারতেও বাংলাদেশি পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে সঙ্ঘ পরিবারের অন্যতম সংগঠন ‘স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ’। ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য তথা ঢাকাই মসলিন, জামদানি, পদ্মার ইলিশ, কালিজিরা চাল, শীতলপাটি, নকশিকাঁথা এবং অন্যান্য পণ্যের বিরুদ্ধে এই বয়কট আন্দোলন গড়ে তুলতে চায় সংগঠনটি। সেই সঙ্গে, বাংলাদেশে তৈরি অন্যান্য পণ্য যেমন, জামদানি শাড়ি, বিভিন্ন ধরনের আম, ও শাড়ি পণ্যগুলোর উপরেও বয়কটের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
পদ্মার ইলিশ বা ঢাকাই মসলিন বয়কটের দাবির পাশাপাশি, এই সংগঠনটির লক্ষ্য বাংলাদেশের পণ্য আমদানি ও বিক্রি বন্ধ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানানো। এই অবস্থায়, সঙ্ঘ পরিবারের সংগঠনটি বাংলাদেশের পণ্যবিরোধী আন্দোলন শুরু করতে চায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে, কারণ রাজ্যটি বাংলাদেশের সীমান্তে অবস্থিত এবং এখানে এসব পণ্যের চাহিদা বেশ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক দাবি জানিয়েছে স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ। বাংলাদেশি পণ্যের বাজার বন্ধ করে দেওয়ার জন্য মঞ্চের দাবি, বাংলাদেশ থেকে তুলো, চিনি, এবং অন্যান্য রফতানি সামগ্রী ভারতে আনা বন্ধ করা হোক। এমনকি, কিছুক্ষণের জন্য হলেও, বাংলাদেশিদের ভারতে চিকিৎসার ভিসা দেওয়া বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার বন্ধ করার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এই আন্দোলন শুরু হতে পারে পশ্চিমবঙ্গ থেকে, যেখানে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবাদ এবং প্রতিবাদী কর্মসূচি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মঞ্চের নেতা অম্লানকুসুম ঘোষ বলেন, ‘‘বাংলাদেশে যখনই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাংলায় পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে, বাঙালি হিন্দুদের প্রতিবাদ করা উচিত এবং আমরা সেই জন্যই চাই, বাংলায় বাংলাদেশের সব পণ্য বয়কট করা হোক।’’
১৯৯১ সালে স্বদেশী জাগরণ মঞ্চের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আরএসএসের শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা দত্তপন্থ ঠেংরি। সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল দেশীয় পণ্য ব্যবহারকে উৎসাহিত করা এবং দেশের সরকারকে স্বদেশী নীতি গ্রহণে বাধ্য করা। মোদী সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতি এরই অংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছিল। তবে, মঞ্চ সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত এবং বিজেপির ওপর একাধিক অভিযোগ তুলেছে, বিশেষ করে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি সম্পর্কে।
মঞ্চের পক্ষ থেকে বলানো হচ্ছে, “আমরা সব রকম বিদেশি পণ্য বয়কট করার কথা বলি, বিশেষ করে বাংলাদেশি পণ্য। বাংলাদেশ এখন ভারত বিরোধিতার ভূমি হয়ে উঠেছে, সুতরাং সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হচ্ছে, তারা যেন এসব পণ্য বয়কট করেন।”
স্বদেশী জাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশে তৈরি কিছু বিশেষ পণ্য যেমন, ঢাকাই মসলিন, জামদানি শাড়ি, পদ্মার ইলিশ, কালিজিরা চাল এবং অন্যান্য পণ্যগুলোর উল্লেখ রয়েছে। মঞ্চের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র পণ্য বয়কটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাদের পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশি সিনেমা, নাটক, ওয়েব সিরিজ ইত্যাদিও বয়কট করা এবং ইউটিউবে বাংলাদেশি চ্যানেলগুলোও বন্ধ করার। পাশাপাশি, বাংলাদেশের ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ কাজও না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা হবে।
রাজনৈতিক মহলে এই আন্দোলন নিয়ে নানা আলোচনা চলছে, তবে মঞ্চের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, এটি দেশের জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলবে এবং বাংলাদেশ থেকে আসা পণ্য বয়কটের আহ্বানে সমর্থন মিলবে।