ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনের রূপরেখা: শপথের আগেই অভিবাসন নীতি নিয়ে কড়া বার্তা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনের রূপরেখা সোমবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয়বার শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগেই তিনি তাঁর দ্বিতীয় প্রশাসনের পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি…

January 20, 2025
1 min read

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনের রূপরেখা

সোমবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয়বার শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগেই তিনি তাঁর দ্বিতীয় প্রশাসনের পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার একাধিক ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন তিনি, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আমেরিকার অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন। প্রথম দিন থেকেই কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প, বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসন এবং সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে।

ট্রাম্পের প্রথম দিনেই অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের পরপরই তিনি আমেরিকার সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করতে এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছেন। তিনি আগেই বলেছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিনে আমেরিকায় অভিবাসন সম্পর্কিত যে সমস্ত শিথিল নীতি রয়েছে, তা বাতিল করবেন এবং অবৈধভাবে যারা দেশে প্রবেশ করেছেন, তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, আমেরিকায় অনুপ্রবেশকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের

‘আক্রমণ বন্ধ হবে’—ট্রাম্পের আশ্বাস

ওয়াশিংটনে এক বিজয় সভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, “আগামিকাল সূর্যাস্তের আগেই আমাদের দেশে বাইরে থেকে আক্রমণ বন্ধ হয়ে যাবে।” তিনি একে ‘ঐতিহাসিক গতি এবং শক্তি’ দিয়ে সমাধান করবেন বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাইডেন প্রশাসনের ‘প্রতিটি কট্টরপন্থী এবং বোকা সরকারি নির্দেশ’ বাতিল করা হবে। তিনি এই পদক্ষেপকে দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান হিসেবে তুলে ধরেছেন।

বিশ্ব পরিস্থিতি: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়া

ট্রাম্প আরও জানান, তিনি ইউক্রেনের যুদ্ধ থামাতে এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা বন্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর দাবি, “আমরা অনেক কাছাকাছি চলে এসেছি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে, কিন্তু আমি এটি থামিয়ে দিতে পারব।” এমন একটি পরিস্থিতি থেকে সরে আসার জন্য তাঁর প্রশাসন দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি জানান।

অপরাধচক্র ও মাদক পাচার: ট্রাম্পের পদক্ষেপ

অভিবাসন নীতি ছাড়াও ট্রাম্প অন্য একটি বড় বিষয়কে সামনে রেখেছেন, তা হলো বিদেশি অপরাধচক্র এবং মাদক পাচার। তিনি জানান, যেসব বিদেশি অপরাধচক্র আমেরিকায় প্রবেশ করেছে, তা বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর প্রশাসন মাদক পাচার চক্রগুলিকে ‘বিদেশি জঙ্গি গোষ্ঠী’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে, এবং আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হতে পারে।

মুক্তবাজারের সমর্থনে ট্রাম্প

ট্রাম্প একদিকে যেখানে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন, অন্যদিকে তিনি আমেরিকার মুক্তবাজারের পক্ষেও কথা বলছেন। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলবেন এবং আমেরিকার নাগরিকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন। ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ভারত এবং অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক

ট্রাম্পের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর উপস্থিত থাকবেন, যা ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর আগে, ভারতীয় শিল্পপতি মুকেশ অম্বানী এবং তাঁর স্ত্রী নীতা অম্বানী ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শপথগ্রহণের আগে একটি নৈশভোজে আমন্ত্রিত ছিলেন। এ ধরনের বৈঠকগুলো আমেরিকা এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্কের আরও গভীরতা আনবে, এমনটাই আশা করা হচ্ছে।

উপসংহার

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসন যে কড়া পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, তা একাধিক দিকে নজর দিয়ে বোঝা যাচ্ছে। বিশেষ করে অভিবাসন নীতির পরিবর্তন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর জোরালো অবস্থান এক ধরনের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি যে দৃঢ় মনোভাব গ্রহণ করবেন, তাও সমালোচকরা বলছেন। তবে, ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলি আমেরিকার অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক নীতিতে নতুন রূপরেখা তৈরি করতে চলেছে।

‘চোখ তুলে দেখো না কে এসেছে’: বিয়ের আসরে নাচে মাতলেন রুবেল! লাজুক শ্বেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *