ডিমের ভয় নয়, থানায় যেতেই হবে মহুয়াকে!
ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে সশরীরে থানায় হাজিরা দিতেই হবে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে তদন্তে যোগ দেওয়ার আবেদন শুক্রবার গ্রহণ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। শেষ পর্যন্ত সেই আবেদন প্রত্যাহার করে নেন মহুয়ার আইনজীবী। শুনানির সময় বিচারপতিদের মন্তব্যও বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে।
নদিয়ার হোগলাবেড়িয়া থানায় মহুয়ার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছে। এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়ে জানিয়েছিল, অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। তবে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং ১৪ অগস্ট সশরীরে থানায় হাজিরা দিতে হবে। সেই নির্দেশই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।
শুনানিতে মহুয়ার আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ জানান, তাঁর মক্কেলের থানায় হাজিরা দিতে আপত্তি নেই। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ভার্চুয়াল মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হোক। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি এলাকায় মহুয়ার উপর ডিম ছোড়া এবং বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। ফলে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এই যুক্তির জবাবে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত প্রশ্ন তোলেন, “তিনি সাংসদ বলেই কি এই বিশেষ সুবিধা চাইছেন?” এরপর ডিম ছোড়ার প্রসঙ্গ উঠতেই বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, “রাজনীতিতে নেমেছেন যখন, তখন ডিমের ভয় কেন? আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা তো বুক পেতে গুলি খেয়েছিলেন।” আদালতের মতে, এমন পরিস্থিতিকে ভয় পাওয়ার কারণ নেই।
এই মন্তব্যের পরই মহুয়ার পক্ষ আবেদন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশই বহাল থাকছে। নির্ধারিত দিনেই তাঁকে নদিয়ার হোগলাবেড়িয়া থানায় উপস্থিত হয়ে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই নদিয়ায় এক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন মহুয়া। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর ছোড়া হয়েছিল। ওই ঘটনার পরই তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ ওঠে এবং থানায় মামলা দায়ের হয়।
সুপ্রিম কোর্টের মৌখিক পর্যবেক্ষণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন, যদি নিরাপত্তা নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করা না যায়, তবে জনপ্রতিনিধিরা নিরাপত্তার দাবি কোথায় জানাবেন? অন্যদিকে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায় মনে করেন, আদালতের এমন মন্তব্য মৌখিক পর্যবেক্ষণ হতে পারে, তবে লিখিত নির্দেশে সাধারণত এ ধরনের মন্তব্য স্থান পায় না।
এখন নজর ১৪ অগস্টের দিকে। ওই দিন মহুয়া মৈত্রকে সশরীরে থানায় হাজির হয়ে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে, কারণ সুপ্রিম কোর্টে তাঁর ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদন আর টিকল না।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।