শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের নেপথ্যে শিক্ষা-চাকরির ফারাক!
ভারতে শিক্ষার প্রসার যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য—ডিগ্রি থাকলেই চাকরি মিলছে না। বরং উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশকেই কর্মসংস্থানের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক নীতি আয়োগের রিপোর্টেও শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং চাকরির বাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষতার মধ্যে ফারাকের বিষয়টি উঠে এসেছে।
নীতি আয়োগের ২০২৬ সালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র ৮.২৫ শতাংশ স্নাতক তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজে যুক্ত। অর্থাৎ, বহু তরুণ হয় নিজেদের যোগ্যতার তুলনায় কম দক্ষতার কাজ করছেন, নয়তো চাকরির বাজারে ঢোকার আগে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে নতুন দক্ষতা অর্জন করছেন। পেশাভিত্তিক এবং সাধারণ ডিগ্রির মধ্যে কর্মযোগ্যতার পার্থক্যের কথাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
সমস্যার অন্যতম বড় জায়গা হল শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে চাকরির বাজারের চাহিদার অসামঞ্জস্য। প্রযুক্তি, ডিজিটাল পরিষেবা এবং বিভিন্ন শিল্পে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম সেই পরিবর্তনের সঙ্গে একই গতিতে বদলাচ্ছে না। ফলে ডিগ্রি থাকলেও বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বা নির্দিষ্ট পেশাগত প্রশিক্ষণের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আইএলও-র ‘ইন্ডিয়া এমপ্লয়মেন্ট রিপোর্ট ২০২৪’-এও শিক্ষিত তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কৃষি থেকে বেরিয়ে আসা ক্রমবর্ধমান শিক্ষিত তরুণদের জন্য উৎপাদনশীল এবং ভাল আয়ের কাজ তৈরি করা ভারতের শ্রমবাজারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
এর সঙ্গে রয়েছে সংগঠিত বা ফরমাল ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব। অর্থনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন কাজ তৈরি হলেও তার সবই স্থায়ী, নিরাপদ বা উচ্চ বেতনের নয়। ফলে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রত্যাশা এবং বাস্তবে পাওয়া কাজের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।
গবেষণা ও উন্নয়নেও ভারতের তুলনামূলক কম বিনিয়োগ এই সমস্যার সঙ্গে পরোক্ষ ভাবে যুক্ত। ২০২৫-২৬ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের মোট গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় জিডিপির প্রায় ০.৬৪ শতাংশ। একই রিপোর্টে বলা হয়েছে, মোট আরঅ্যান্ডডি ব্যয়ের প্রায় ৪১ শতাংশ আসে ব্যবসায়িক ক্ষেত্র থেকে। আমেরিকা, চিন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় এই বিনিয়োগের মাত্রা কম।
বেসরকারি ক্ষেত্রে গবেষণায় কম বিনিয়োগের ফলে নতুন প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং উচ্চ দক্ষতার কাজ তৈরির গতি সীমিত হতে পারে। অর্থনৈতিক সমীক্ষাতেও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
তাই সমস্যাটিকে শুধু ‘ডিগ্রিধারী বেকার’ হিসাবে দেখলে পুরো ছবিটা ধরা পড়ে না। এক দিকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী বদলানো, অন্য দিকে গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং উৎপাদনশীল, স্থায়ী কাজের সুযোগ তৈরি—তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা শুধু কত জন তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পেলেন, তা নয়। সেই শিক্ষাকে কাজে লাগানোর মতো অর্থনীতিতে কতটা সুযোগ তৈরি হচ্ছে, সেটিই ভারতের কর্মসংস্থান সমস্যার অন্যতম বড় মাপকাঠি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।