ডার্বি ড্র হলেও লিগ জয়ের দোরগোড়ায় ইস্টবেঙ্গল, শেষ মুহূর্তে মোহনবাগানের রক্ষা কামিংসের গোলে

ডার্বি ড্র হলেও লিগ জয়ের দোরগোড়ায় ইস্টবেঙ্গল! কলকাতা ডার্বি আবারও প্রমাণ করল, এই ম্যাচ শেষ বাঁশি বাজার আগে কখনও শেষ হয় না। যুবভারতীতে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল ১-১…

May 18, 2026
1 min read

ডার্বি ড্র হলেও লিগ জয়ের দোরগোড়ায় ইস্টবেঙ্গল!

কলকাতা ডার্বি আবারও প্রমাণ করল, এই ম্যাচ শেষ বাঁশি বাজার আগে কখনও শেষ হয় না। যুবভারতীতে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল ১-১ গোলে ড্র করল। তবে এই ফলের পর লিগ জয়ের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেল লাল-হলুদ শিবির। শেষ ম্যাচে ইন্টার কাশীকে হারাতে পারলেই প্রথম বার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে ইস্টবেঙ্গলের। অন্য দিকে, মোহনবাগানকে এখন নিজেদের ম্যাচ জেতার পাশাপাশি তাকিয়ে থাকতে হবে ইস্টবেঙ্গলের ফলের দিকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। সুযোগও তৈরি হয়েছে প্রচুর। কিন্তু গোলের সামনে বার বার ব্যর্থতা, কখনও গোলরক্ষকদের দুরন্ত সেভ— সব মিলিয়ে প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থাতেই শেষ হয়।

শুরুর দিকে মোহনবাগান কিছুটা বেশি চাপে রাখলেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে ইস্টবেঙ্গল। ১৫ মিনিটে অ্যান্টন সোজবার্গের জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। কিছু ক্ষণের মধ্যেই আরও সহজ সুযোগ নষ্ট করেন বিপিন সিংহ। গোলরক্ষক বিশাল কাইথকে একা পেয়েও শট নিতে দেরি করে ফেলেন তিনি। প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলের একাধিক সুযোগ হাতছাড়া দেখে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন কোচ অস্কার ব্রুজ়োও।

অন্য দিকে মোহনবাগানও কম সুযোগ পায়নি। লিস্টন কোলাসো, সাহাল আব্দুল সামাদরা বার বার আক্রমণে উঠলেও শেষ মুহূর্তে নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অভাব ছিল চোখে পড়ার মতো।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। ইস্টবেঙ্গল শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপায়। ৬৬ মিনিটে মিগুয়েলের জোরালো শট বিশাল কাইথ দুর্দান্ত ভাবে বাঁচান। ফিরতি বল থেকেও গোল করতে পারেননি ইউসেফ এজেজারি। অন্য দিকে মোহনবাগানের আক্রমণে গতি ও বোঝাপড়ার অভাব স্পষ্ট হচ্ছিল। সেই কারণেই কোচ সের্জিয়ো লোবেরা একের পর এক বদল আনতে বাধ্য হন।

শেষ দিকে ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, তখনই ৮৪ মিনিটে বিস্ফোরণ ঘটান এডমুন্ড লালরিন্ডিকা। দ্রুত আক্রমণে এজেজারির পাস থেকে মিগুয়েল বল বাড়ান এডমুন্ডকে। ঠান্ডা মাথায় বিশাল কাইথকে পরাস্ত করে গোল করেন তিনি। যুবভারতী তখন লাল-হলুদের উল্লাসে ফেটে পড়েছে।

কিন্তু সেই উল্লাসই যেন কিছুটা বিপদ ডেকে আনে। গোলের পর কয়েক মিনিট মনঃসংযোগ হারিয়ে ফেলে ইস্টবেঙ্গল। সেই সুযোগ কাজে লাগায় মোহনবাগান। ৯০ মিনিটে রবসন রবিনহোর কর্নার থেকে দুরন্ত ব্যাকহেডে গোল করে সমতা ফেরান জেসন কামিংস।

শেষ মুহূর্তে দুই দলই জয়ের সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু আর গোল হয়নি। ফলে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুই প্রধানকে।

তবে ম্যাচ শেষে দুই দলের শরীরী ভাষাতেই পার্থক্য ছিল স্পষ্ট। ইস্টবেঙ্গল শিবিরে আত্মবিশ্বাস আর স্বস্তি, কারণ ভাগ্য এখনও পুরোপুরি তাদের হাতেই। আর মোহনবাগান জানে, এখন শুধু নিজেদের জিতলেই হবে না— অপেক্ষা করতে হবে প্রতিপক্ষের ভুলেরও।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *