ডায়েট নয়, জিম নয়!
“৬০-এর আমি, ৩০-এর আমার থেকেও বেশি শক্তিশালী”— জন্মদিনের পর এই কথাই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন মিলিন্দ সোমন। বয়স তাঁর কাছে শুধু সংখ্যা, জীবনযাপনের শক্তি আর মনোবলের কাছে হার মানে সেই সংখ্যা। এই বয়সেও যে ভাবে তিনি দৌড়ান, পাহাড়ে ওঠেন, শরীরচর্চা করেন— তা অনেক তরুণের কাছেই অনুপ্রেরণা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সুস্থ থাকার জন্য কী কী নিয়ম মেনে চলেন তিনি? ছ’টি নিয়মের কথা বলতে বলা হলে মিলিন্দ হেসে বলেন, “সংখ্যা ধরে নিয়ম বানানোই অপ্রয়োজনীয়। সুস্থ থাকা কোনও তালিকার বিষয় নয়, এটা মানসিক ইচ্ছে।”
তাঁর মতে, সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় শর্ত একটাই— সুস্থ থাকতে চাওয়া। যদি সেই ইচ্ছেটা থাকে, তা হলে উপায় নিজেই তৈরি হয়ে যায়।
মিলিন্দের ফিট থাকার সহজ অভ্যাস
মিলিন্দ স্পষ্ট করে জানান, তিনি কোনও কঠিন ডায়েট চার্ট বা কড়া ওয়ার্কআউট রুটিনে বিশ্বাসী নন। তাঁর জীবনযাপন অত্যন্ত সাধারণ, অথচ কার্যকর।
প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট শরীরচর্চা করেন তিনি। ভারী কোনও ব্যায়াম নয়, বরং হালকা নড়াচড়া, স্ট্রেচিং, নিজের শরীরকে সচল রাখাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
খাবারের ক্ষেত্রেও তাঁর দর্শন খুব সহজ— ঘরোয়া খাবার খান, প্যাকেটজাত ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। তবে তিনি নিজেকে কোনও খাবার থেকে বঞ্চিত করেন না। মিলিন্দের মতে, “যে খাবার আপনার হজম হয়, সেটাই আপনার জন্য স্বাস্থ্যকর।”
তিনি বিশ্বাস করেন, সবার শরীর এক নয়। তাই এক জনের জন্য যা ভালো, অন্য জনের জন্য তা ভালো নাও হতে পারে। নিজের শরীরকে বুঝে খাওয়াই আসল বুদ্ধিমত্তা।
ঘুমের বিষয়টিও তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর আর মন— দুটোই ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
জিম নয়, সচল জীবনই আসল ব্যায়াম
মিলিন্দের ফিটনেস দর্শনের সবচেয়ে বড় চমক এখানেই। তিনি বলেন, “ঘড়ি ধরে জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করাই ফিট থাকার একমাত্র উপায় নয়। আসল কথা হল, সারাদিন নিজেকে সচল রাখা।”
মাটিতে বসা, উঠে দাঁড়ানো, সিঁড়ি ভাঙা, হাঁটা, দৌড়ানো, শরীরকে নানা ভঙ্গিতে ব্যবহার করা— এই ছোট ছোট কাজগুলোই প্রকৃত ব্যায়াম। মিলিন্দ নিজে কখনও জিমে যাননি। বাড়িতেই নিজের মতো করে শরীরচর্চা করেন তিনি।
সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি
মিলিন্দ সোমনের মতে, সুস্থ থাকা কোনও কঠিন বিজ্ঞান নয়। নিজের শরীরের কথা শোনা, প্রয়োজন বোঝা এবং আনন্দের সঙ্গে জীবনযাপন করাই সুস্থতার মূল চাবিকাঠি।
ডায়েট চার্ট, জিম মেম্বারশিপ বা কড়া নিয়ম নয়— বরং সচল জীবন, স্বাভাবিক খাবার আর ইতিবাচক মানসিকতাই ৬০-এও তাঁকে করে তুলেছে তরুণের মতো ফিট।
মিলিন্দ যেন আমাদের মনে করিয়ে দেন— বয়স বাড়ে, কিন্তু যত্ন আর সচেতনতা থাকলে শক্তি কখনও ফুরোয় না। 💪
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা