বাইডেনের আমলেই গাজায় যুদ্ধবিরতি
গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং ইজ়রায়েলি পণবন্দিদের মুক্তি নিয়ে ইজ়রায়েলি সরকার ও প্যালেস্টাইনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে আলোচনা দ্রুত এগোচ্ছে। কাতারের রাজধানী দোহায় এই আলোচনার মূল দায়িত্ব নিয়েছেন কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল-থানি। জো বাইডেন প্রশাসন এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় সমর্থন জানিয়ে ইজ়রায়েল ও হামাসের মধ্যে শান্তি স্থাপনে বড় ভূমিকা রাখছে।
ইজ়রায়েল-হামাসের চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভবত এই সপ্তাহেই
ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দফতরের একজন আধিকারিক জানিয়েছেন, আলোচনার পরিবেশ অত্যন্ত ইতিবাচক। এমনকি চলতি সপ্তাহেই চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সালিভানও নিশ্চিত করেছেন যে, এই সপ্তাহেই একটি বড় ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইজ়রায়েলের ভূখণ্ডে ব্যাপক হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি ক্রমেই সংঘাতময় হয়ে ওঠে। ইজ়রায়েলের সেনাবাহিনী গাজায় পাল্টা গ্রাউন্ড অপারেশন শুরু করলে গাজা ভূখণ্ড প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সংঘাতের প্রেক্ষিতে হাজার হাজার প্রাণহানি ঘটে, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

বাইডেন প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা
যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের সক্রিয়তা ইতিমধ্যে নজর কেড়েছে। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কাতারের আমিরের সঙ্গে ফোনে কথা বলে আলোচনার অগ্রগতির বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন। গাজায় ইজ়রায়েলি বাহিনীর হামলাকে তিনি অতিরিক্ত বলেও চিহ্নিত করেছিলেন। তিন শব্দে তা ব্যাখ্যা করেছিলেন—“ওভার দ্য টপ”। এর মাধ্যমে তিনি ইজ়রায়েলি প্রতিক্রিয়াকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হিসেবে উল্লেখ করেন। এই মন্তব্য নেতানিয়াহু ভালভাবে নেননি এবং এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন। তবুও, বাইডেন প্রশাসন যুদ্ধবিরতি আনতে আপসহীন থেকে কাজ করে চলেছে।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইডেনের হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগেই যদি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবে তা তাঁর প্রশাসনের জন্য এক বিশাল সাফল্য হয়ে দাঁড়াবে। রাষ্ট্রপুঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদের বাকি স্থায়ী সদস্য দেশ ও ১০টি অস্থায়ী সদস্য দেশ এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়েছে। এর মধ্যে আমেরিকার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ইজ়রায়েল-হামাস চুক্তির সম্ভাব্য দিক
চুক্তির অংশ হিসেবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ইজ়রায়েলের হাতে থাকা প্যালেস্টাইনি বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে হামাসের হাতে বন্দি ইজ়রায়েলি নাগরিকদেরও মুক্তি দেওয়া হতে পারে। তবে, এই চুক্তির বাস্তবায়ন একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও দ্বন্দ্ব চুক্তি বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবুও, কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা যতটা এগিয়েছে, তাতে আশা করা হচ্ছে, এই সপ্তাহেই শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে।
শেষ কথা
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে তা কেবল গাজা ভূখণ্ডের জন্য নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠবে। এই চুক্তি শুধু ইজ়রায়েল-প্যালেস্টাইন সংকট নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে বাইডেন প্রশাসনের কূটনৈতিক দক্ষতার উদাহরণ হিসেবেও কাজ করবে।
সত্যিকারের সাধ্বী নাকি শুধুই লোকদেখানো! নেটপ্রভাবী হর্ষা রিচারিয়া নিয়ে কেন এত বিতর্ক?