‘ট্রাম্প কার্ডে’ নাগরিকত্ব নয়, প্রবেশাধিকার!!
ঘোষণা হয়েছিল আগেই। অবশেষে কার্যকর হল ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা—‘ট্রাম্প কার্ড’ বিক্রি শুরু হল আমেরিকায়। মার্কিন নাগরিকত্ব না হলেও এই কার্ড আমেরিকায় প্রবেশের জন্য তৈরি ‘প্রিমিয়াম টিকিট’। বুধবার এক্স হ্যান্ডলে (প্রাক্তন টুইটার) পোস্ট করে ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন, কী ভাবে এই কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে এবং কী সুবিধা মিলবে একে ঘিরে।
এই ‘ট্রাম্প কার্ড’, যা ‘গোল্ড কার্ড’ নামেও পরিচিত, তার আবেদন প্রক্রিয়া চালু হয়েছে নতুন একটি সরকারি ওয়েবসাইটে—trumpcard.gov। আবেদনকারীকে প্রথমে অনলাইন ফর্ম পূরণ করে ‘ওয়েটলিস্ট’-এ নাম লেখাতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট শর্তে উত্তীর্ণ হলে কার্ড হাতে পাবেন আবেদনকারী।
তবে এই কার্ডে সরাসরি মার্কিন নাগরিকত্ব মিলবে না—এ কথাও স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “এটি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দেশে (আমেরিকা) প্রবেশের এক অনন্য পথ। তবে নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি বিশেষ সুবিধা।”
কত খরচ?
এই কার্ড পেতে একজন আবেদনকারীকে ৫ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৩ কোটি টাকা দিতে হবে। অনেকের মতে, এটি মূলত অভিজাত শ্রেণির জন্য তৈরি একটি এক্সক্লুসিভ সুবিধা, যা সাধারণ গ্রিন কার্ডের তুলনায় আরও ‘প্রিমিয়াম’।
ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, এই কার্ড চালু করতে কোনও আইনসভার অনুমতি লাগে না। কারণ এটি নাগরিকত্ব দিচ্ছে না, কেবল বিশেষ শ্রেণির বিনিয়োগকারী বা অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জন্য একটি প্রবেশাধিকার তৈরি করছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্দেশ্য কী?
ট্রাম্পের প্রশাসন ফের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন নীতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। একদিকে অবৈধ অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, অন্যদিকে গ্রিন কার্ড বা সাধারণ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় আসতে পারে নিয়ন্ত্রণ।
এই অবস্থায় ‘ট্রাম্প কার্ড’ চালু হওয়া মানে, অর্থনৈতিক দিক থেকে সক্ষম, উচ্চবিত্ত বিদেশিদের জন্য একটি বিকল্প দরজা খুলে দেওয়া। আমেরিকার বাণিজ্যসচিব হওয়ার্ড লুটনিক বলেন, “ভারতের মতো দেশ থেকে অনেকেই এই প্রক্রিয়ায় উপকৃত হবেন। যাঁরা আমেরিকার অর্থনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চান, তাঁদের জন্য এটি বড় সুযোগ।”
গ্রিন কার্ড বনাম ট্রাম্প কার্ড
বর্তমানে আমেরিকায় EB-5 প্রোগ্রাম নামে একটি অভিবাসী বিনিয়োগ প্রকল্প চালু আছে, যার মাধ্যমে বিদেশিরা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে গ্রিন কার্ড পেতে পারেন। তবে ট্রাম্প কার্ড সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “এটি গ্রিন কার্ডের চেয়েও উচ্চস্তরের সুবিধা দেবে।”
তবে সমালোচকদের মতে, এই কার্ড পুঁজিবাদী নাগরিকত্বের একটি দৃষ্টান্ত, যেখানে অর্থই শেষ কথা। আমেরিকান স্বপ্ন যতটা সুযোগের প্রতীক ছিল, আজ তা যেন টাকার অঙ্কে মাপা হচ্ছে।
চল্লিশের পর ফিটনেস মানে শুধু ঘাম নয়, সচেতনতা! লিসা রে জানালেন কোন ব্যায়াম থেকে দূরে থাকবেন