ট্রাম্পকে চাপে ফেলতে কি আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে রাশিয়া-চিন? নতুন সমীকরণে বাড়ছে বিশ্বরাজনীতির উত্তাপ

ট্রাম্পকে চাপে ফেলতে কি আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে রাশিয়া-চিন? মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর চিন সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই বেজিংয়ে পৌঁছলেন রুশ প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin। আর সেই সফর ঘিরেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে…

May 22, 2026
1 min read

ট্রাম্পকে চাপে ফেলতে কি আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে রাশিয়া-চিন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর চিন সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই বেজিংয়ে পৌঁছলেন রুশ প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin। আর সেই সফর ঘিরেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমেরিকার প্রভাব মোকাবিলায় আরও কাছাকাছি আসছে রাশিয়া ও চিন।

চিনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর সঙ্গে বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন পুতিন। ইরান যুদ্ধ, জ্বালানি নিরাপত্তা, পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং আমেরিকার প্রতিরক্ষা নীতি— সব ক্ষেত্রেই ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিতে দেখা যায় দুই রাষ্ট্রনেতাকে।

বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্প নিয়ে সরব হন শি ও পুতিন। তাঁদের দাবি, আমেরিকার এই পদক্ষেপ বিশ্বে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তাঁরা সতর্ক করেন, অতিরিক্ত সামরিক আগ্রাসন ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের কারণ হতে পারে।

কূটনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে শি জিনপিঙের আচরণও। ট্রাম্পের সফরের সময় যেখানে একাধিক বিষয়ে সীমারেখা টেনেছিল বেজিং, সেখানে পুতিনকে অনেক বেশি উষ্ণ অভ্যর্থনা দেওয়া হয়েছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের। এই পার্থক্য থেকেই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন বার্তা খুঁজছেন অনেকে।

ইরান যুদ্ধ নিয়েও একই সুরে কথা বলেছে মস্কো ও বেজিং। তাঁদের মতে, কিছু দেশ এখনও নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বিশ্বরাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। যদিও যৌথ বিবৃতিতে সরাসরি আমেরিকার নাম নেওয়া হয়নি, তবু ইঙ্গিত যে ওয়াশিংটনের দিকেই, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই ঘনিষ্ঠতার নেপথ্যে অর্থনৈতিক কারণও রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চাপে রয়েছে রাশিয়া। সেই পরিস্থিতিতে রুশ তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে চিন। ফলে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে।

বেজিং সফরে ৪০টিরও বেশি চুক্তিতে সই করেছেন পুতিন। অর্থনীতি, শিক্ষা, পর্যটনের পাশাপাশি জ্বালানি ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। যদিও বহুচর্চিত ‘পাওয়ার অফ সাইবেরিয়া ২’ গ্যাস পাইপলাইন নিয়ে এখনও চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি দুই দেশ।

এ দিকে, এই নতুন সমীকরণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভারতেরও। কারণ, চিনের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা এখনও পুরোপুরি মেটেনি। পাশাপাশি, তাইওয়ান ইস্যু এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাড়তে থাকা উত্তেজনাও বিশ্বরাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সব মিলিয়ে, রাশিয়া-চিনের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা যে আগামী দিনে আমেরিকার জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *