ট্রলি ব্যাগে স্ত্রীর দেহ! খবর পেয়ে নির্বিকার প্রাক্তন স্বামী, বললেন— ‘‘আমার কিছু করার নেই’’

ট্রলি ব্যাগে স্ত্রীর দেহ! রক্ত চুঁইয়ে পড়ছিল ট্রলি ব্যাগ থেকে। সন্দেহ হতেই পথচলতি কয়েকজন এগিয়ে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাগ খুলতেই প্রকাশ্যে আসে এক বিভীষিকাময় সত্য। ট্রলির ভেতর টুকরো টুকরো করে…

February 26, 2025
1 min read

ট্রলি ব্যাগে স্ত্রীর দেহ!

রক্ত চুঁইয়ে পড়ছিল ট্রলি ব্যাগ থেকে। সন্দেহ হতেই পথচলতি কয়েকজন এগিয়ে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাগ খুলতেই প্রকাশ্যে আসে এক বিভীষিকাময় সত্য। ট্রলির ভেতর টুকরো টুকরো করে কাটা এক নারীর দেহ! নাম সুমিতা ঘোষ। অভিযোগ, তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তাঁরই আত্মীয়রা। কলকাতার কুমোরটুলি ঘাটে এই ভয়াবহ ঘটনার খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু এই নির্মম খুনের কথা শুনে একেবারেই নির্বিকার রইলেন সুমিতার প্রাক্তন স্বামী সুদীপ্ত ঘোষ। পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাট কালীতলার বাসিন্দা সুদীপ্ত সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “খবরটা শুনে খারাপ লাগছে। কিন্তু সুমিতাই তো আমায় ছেড়ে চলে গিয়েছিল। এখন আমার আর কী করার আছে? কী-ই বা বলার আছে?”

একটা সম্পর্কের ইতি, তারপর ভয়াবহ পরিণতি

সুদীপ্ত জানান, ২০১৭-১৮ সাল নাগাদ সুমিতার সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তবে সেই সম্পর্কে ঠিক কী কারণে ভাঙন ধরেছিল, তা বলতে চাননি তিনি। স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক অশান্তিই ছিল সম্পর্কের ইতি টানার মূল কারণ। একসময় একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন সুদীপ্ত। তবে বর্তমানে তিনি চাষবাস করেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তম্ভিত নাদনঘাটের বাসিন্দারাও। তাঁদের কেউ কেউ বলছেন, “সুমিতা তো একসময় এই গ্রামেরই বউ ছিল। এখন সে আর নেই, ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। এমন নির্মম পরিণতি মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন।”

গঙ্গায় ডুবিয়ে দেওয়া হত দেহ! স্থানীয়দের তৎপরতায় আটক খুনি

মঙ্গলবার সকালে কলকাতার কুমোরটুলি ঘাটে নজরে আসে দুই মহিলা— তাঁদের হাতে ভারী ট্রলি ব্যাগ। তাঁরা সেটি গঙ্গায় ফেলতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ব্যাগ থেকে চুঁইয়ে পড়ছিল রক্ত! সন্দেহ হতেই স্থানীয়দের কয়েকজন এগিয়ে যান এবং বাধা দেন।

ব্যাগের মধ্যে কী রয়েছে জানতে চাইলে প্রথমে তারা কিছু বলতে চাননি। পরে চাপে পড়ে একজন জানান, “এটা আমাদের আত্মীয়ার দেহ!” উপস্থিত জনতা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন।

পরিকল্পিত খুন! সম্পত্তির জেরে খুন হন সুমিতা

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ধৃত দুই মহিলা হলেন আরতি ঘোষ এবং তাঁর মেয়ে ফাল্গুনী ঘোষ। তাঁরা সম্পর্কে সুমিতার আত্মীয়। ফাল্গুনী ছিলেন সুমিতার ভাইবোনের বউ।

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে আরও ভয়াবহ তথ্য। মধ্যমগ্রামের দক্ষিণ বীরেশপল্লির বাসন্তী মন্দির এলাকায় ফাল্গুনীদের বাড়িতে ছিলেন সুমিতা। সেখানেই তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়, এরপর দেহ টুকরো টুকরো করে কাটা হয়।

সম্পত্তির লোভেই খুন!

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদের কারণেই খুন হন সুমিতা। তবে তদন্ত এখনও চলছে। ধৃত দুই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে খুন এবং প্রমাণ লোপাটের ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।

শেষ কথা

এই নৃশংস খুন কেবল পরিবারে অশান্তির এক ভয়াবহ রূপই দেখায় না, বরং সমাজের অন্ধকার দিকও তুলে ধরে। যেখানে লোভ, স্বার্থ আর অর্থের লালসায় রক্তের সম্পর্কও মুহূর্তে শত্রুতায় পরিণত হতে পারে। অথচ, এই মৃত্যুর খবরে প্রাক্তন স্বামীর স্রেফ একটাই প্রতিক্রিয়া— “আমার কিছু করার নেই!”

শুরুতেই ছন্দহীন শামি, এক ওভারে ১১ বল! বুমরাহের রেকর্ড ভাঙলেন বাংলার পেসার

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *