ট্রলি ব্যাগে আত্মীয়ার দেহ!
কলকাতার কুমোরটুলি ঘাটের এক সাধারণ সকাল হঠাৎই রূপ নিল রুদ্ধশ্বাস ঘটনায়। একটি ট্রলি ব্যাগে ভরে দেহ গঙ্গায় ফেলতে যাচ্ছিলেন দুই মহিলা, সন্দেহ হতেই ধরা পড়লেন। আর তখনই প্রকাশ্যে এল এক ভয়ঙ্কর সত্য!
সকালের যোগব্যায়াম থেকে রহস্যের খোঁজ
সকাল প্রায় সাড়ে সাতটা। কুমোরটুলি ঘাটের পাশে কয়েকজন যুবক নিয়মিত যোগব্যায়াম করছিলেন। হঠাৎ এক ক্ষৌরকর্মী এসে তাদের সতর্ক করেন— “দুই মহিলা ট্যাক্সি থেকে ভারী ট্রলি ব্যাগ নামিয়ে গঙ্গার দিকে হাঁটছে। মনে হচ্ছে, ওরা সেটা ফেলে দেবে!”
প্রথমে কথাটি তেমন গুরুত্ব না দিলেও, বারবার বলা শুনে কিছু যুবক এগিয়ে যান। তখনই লক্ষ্য করেন, ওই দুই মহিলা আচমকা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন!
পালানোর চেষ্টার পরও ধরা
যুবকেরা তাড়া করলেও, দুই মহিলার পিছু নেওয়া শোভন হবে কি না, তা নিয়ে একটু দ্বিধায় পড়েন। তাই কাছের এক মন্দিরের পুরোহিতের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যান তারা। মহিলা সামনে এগিয়ে আসতেই ধরা পড়ে যান অভিযুক্ত দু’জন।
তখনও তাঁরা ট্রলি ব্যাগের ভেতরে কী আছে, তা জানাতে অস্বীকার করেন। তবে চারপাশে ভিড় বাড়তে থাকায়, একসময় অল্পবয়সি মেয়েটি অসংলগ্নভাবে বলতে শুরু করে যে, ব্যাগে কুকুরের দেহ আছে!
কিন্তু এত বড় ব্যাগ এবং তাদের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে উপস্থিত জনতা চাপ সৃষ্টি করলে, বয়স্ক মহিলা স্বীকার করেন— ব্যাগে আছে তাঁদের এক আত্মীয়ার দেহ!
পুলিশে খবর ও উত্তেজনার পারদ
এই স্বীকারোক্তি শুনেই উপস্থিত লোকজন হতভম্ব হয়ে যান। তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় সুতানুটি আউটপোস্টে। পুলিশ আসে, কিন্তু অভিযুক্ত দুই মহিলা পালানোর জন্য তখনও ধস্তাধস্তি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাঁরা জনতার ওপরেও আক্রমণ করেন!
সকাল আটটার কিছু পরে উত্তর বন্দর থানার পুলিশ এসে ট্রলি ব্যাগসহ দুই মহিলাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
কে এই দুই মহিলা? কী ছিল ট্রলি ব্যাগে?
পুলিশ সূত্রে জানা যায়—
🔸 গ্রেফতার হওয়া দুই মহিলা হলেন আরতি ঘোষ (মা) ও ফাল্গুনী ঘোষ (মেয়ে)।
🔸 ট্রলি ব্যাগের ভিতরে ছিল ৭৫ বছর বয়সি সুমিতা ঘোষের ছিন্নভিন্ন দেহ!
🔸 সুমিতা সম্পর্কে ফাল্গুনীর পিসিশাশুড়ি ছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, এই বৃদ্ধাকে খুনের পর প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহ গঙ্গায় ফেলার পরিকল্পনা করেন মা ও মেয়ে।
“মানুষ কতটা নৃশংস হলে এ রকম করতে পারে!”
এমন ঘটনা দেখে এলাকার মানুষ স্তম্ভিত!
👉 ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক বলেন,
“গঙ্গার ধারে প্রায়ই আসি, কিন্তু জীবনে প্রথম এ রকম ভয়ঙ্কর কাণ্ড দেখলাম।”
👉 স্থানীয়দের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
“পুলিশ যেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়! এমন অমানবিক কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না!”
পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
📌 সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
📌 ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
📌 অভিযুক্তদের জেরা করে জানার চেষ্টা চলছে, কী কারণে এই হত্যা এবং গঙ্গায় দেহ ফেলতে যাওয়ার উদ্দেশ্য কী ছিল!
📌 এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উপসংহার
একটি শান্ত সকাল মুহূর্তে পরিণত হল বিভীষিকাময় ঘটনায়। মা-মেয়ে কেন এমন করলেন, কী ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য— এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। তবে কলকাতার এই ঘটনা শহরজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এখন দেখার, তদন্ত কোন পথে এগোয় এবং দোষীরা কী শাস্তি পান!
শুরুতেই ছন্দহীন শামি, এক ওভারে ১১ বল! বুমরাহের রেকর্ড ভাঙলেন বাংলার পেসার