ট্যাক্সি চালককে মারধর
কলকাতায় এক ব্যবসায়ী যুবককে ট্যাক্সি চালককে মারধর করে টাকা এবং গাড়ির চাবি ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার রাতের এই ঘটনা ঘটেছে গিরিশ পার্ক থানা এলাকার বিবেকানন্দ রোডে। অভিযুক্ত যুবকের নাম আয়ুষ গান্ধী, এবং তার বাড়ি জোড়াবাগানে। পেশায় ব্যবসায়ী আয়ুষের কাছ থেকে নগদ কিছু টাকা এবং ট্যাক্সির চাবি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি কীভাবে ঘটল?
অভিযোগকারী ট্যাক্সিচালক শুভঙ্কর মাঝি জানালেন, বুধবার রাতে তিনি বিবেকানন্দ রোড ধরে ট্যাক্সি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর ট্যাক্সির সঙ্গে ধাক্কা লাগে এক দামি গাড়ির। ওই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন আয়ুষ গান্ধী। দুই গাড়ির মধ্যে বেশি ক্ষতি না হলেও, ঘটনার পর উভয় চালকই একে অপরের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
আয়ুষ দাবি করেন, তাঁর গাড়ির ক্ষতিপূরণ হিসেবে শুভঙ্করকে টাকা দিতে হবে, কিন্তু ট্যাক্সি চালক তাতে রাজি হননি। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে তর্ক ও বচসা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। শুভঙ্কর অভিযোগ করেন যে, বচসার মাঝে আয়ুষ তাঁকে মারধর করেন এবং তাঁর কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন।
তবে এর পরে ঘটনাটি এখানেই থেমে থাকেনি। আয়ুষ ট্যাক্সির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান। তার পর ট্যাক্সিটি মাঝপথে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে অন্যান্য যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়, এবং এলাকার যানজট তৈরি হয়।
পুলিশি তদন্ত এবং গ্রেফতার
ঘটনা জানার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। শুভঙ্কর মাঝি থানায় মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ঘটনার কিছু সময় পর আয়ুষ গান্ধী নিজেই সেখানে উপস্থিত হন এবং পুলিশ তাকে আটক করে।
পুলিশ আয়ুষের কাছ থেকে ট্যাক্সির চাবি এবং নগদ ৪ হাজার টাকা উদ্ধার করে। এরপর তাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা জানান, আয়ুষ গান্ধীর বিরুদ্ধে মারধর, লুটপাট, এবং রাস্তায় যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা বলছেন, শহরে দিনের বেলাতেও এই ধরনের অপরাধ বেড়ে চলেছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পুলিশ আশা প্রকাশ করছে, এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, আয়ুষ গান্ধী, যিনি একজন ব্যবসায়ী, তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠা শহরের নিন্দার জন্ম দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাকে শাস্তি দেওয়া হবে, এমন আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
এটি এমন একটি ঘটনা, যা শহরের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আরও একবার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।