টুলু মণ্ডল কাণ্ডে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর!
বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি, বেআইনি সম্পত্তি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন ছাড়া এত বড় চক্র বহু বছর ধরে চলতে পারত না। একই সঙ্গে টুলু মণ্ডল ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানে কী কী সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছে, তার বিস্তারিত হিসাবও তুলে ধরেন তিনি।
মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর
শুভেন্দুর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলা হয়েছিল এবং তার ফলে রাজ্য সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। তাঁর দাবি, এই ধরনের কার্যকলাপ প্রশাসনের মদত ছাড়া সম্ভব নয়।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সরকারের সাপোর্ট ছাড়া এটা হতে পারে না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাপোর্ট ছাড়া এত বড় র্যাকেট এত দিন চলতে পারে না।”
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
কী কী বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ?
শুভেন্দুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে এখনও পর্যন্ত—
- টুলু মণ্ডলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে।
- উদ্ধার হয়েছে ৫৩ লক্ষ টাকা নগদ।
- বাজেয়াপ্ত হয়েছে ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো এবং ২৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম।
- নোট গোনার মেশিন, কম্পিউটার, সিপিইউ এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিও জব্দ করেছে পুলিশ।
- টুলুর নামে থাকা ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
আরও যে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়ায়
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, টুলুর আরও ২১টি সম্পত্তি চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলির মধ্যে রয়েছে—
- ৭টি বাড়ি
- ১টি খামারবাড়ি
- ২টি পেট্রল পাম্প
- ১টি ইটভাটা
- ১টি পার্কিং এলাকা
- ৩টি পাথর খাদান
- ২টি স্টোন ক্রাশার
এ ছাড়াও প্রায় ৩০০ বিঘা জমি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আত্মীয়ের বাড়ি থেকেও উদ্ধার বিপুল নগদ
টুলুর ভগ্নিপতি মিনার মণ্ডলের বাড়িতে অভিযানে প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার নগদ এবং বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রশাসনের দাবি, উদ্ধার হওয়া সোনা মিলিয়ে মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। তদন্তকারীরা সোনার উৎস এবং দুবাই থেকে চোরাচালানের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন।
রাজস্ব নিয়ে সরকারের দাবি
শুভেন্দুর বক্তব্য, আগের সরকারের সময়ে পাথর খাদান থেকে বছরে মাত্র ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতো। অথচ বর্তমান সরকারের আমলে ১১ মে থেকে ১১ জুন, মাত্র এক মাসেই একটি জেলার খাদান থেকে ৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব এসেছে। তাঁর দাবি, অতীতে বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব বেসরকারি চক্রের হাতে চলে যেত, আর সেই আর্থিক লেনদেনের সম্পূর্ণ চক্র এখন তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।
এদিকে মিনার মণ্ডলকে ইতিমধ্যেই আদালত আট দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং সংগঠিত অপরাধ-সংক্রান্ত ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে আসতে পারে বলে প্রশাসনের দাবি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?