টুলুকাণ্ডে বড় পদক্ষেপ, গ্রেফতার ভূমি দফতরের কর্মী!
বীরভূমের পলাতক পাথর ব্যবসায়ী মহম্মদ নিজামুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলকে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। এ বার এই মামলায় সিউড়ির মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রবীর দাসকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শুক্রবার রাতে তাঁর বাড়িতে প্রায় ছ’ঘণ্টা তল্লাশি চালানোর পর তাঁকে আটক করা হয়। শনিবার সিউড়ি আদালতে তোলা হলে ছ’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, প্রবীরের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। পাথর শিল্পাঞ্চলের ডিসিআর চেকিং গেটে কোন সরকারি কর্মী দায়িত্বে থাকবেন, সেই বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বও তাঁর হাতে ছিল বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
তবে প্রবীরের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী সাথী দাসের দাবি, টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর স্বামীর কোনও যোগাযোগ নেই এবং তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাঁর বক্তব্য, বাড়িতে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও পুলিশ মাত্র ৮১ হাজার টাকা ও কিছু জমির নথি পেয়েছে। সেই নথি বা টাকা কোনওটাই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।
তদন্তের পাশাপাশি টুলুর সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিদের নিয়েও খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতেই বীরভূম জেলা পুলিশের একটি দল অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সেহগল হোসেনের বোলপুর বাইপাস সংলগ্ন আবাসনে তল্লাশি চালায়। পুলিশ সূত্রের দাবি, টুলু ও সেহগলের মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ছিল। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনও হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। এসডিপিও অর্পিত আর পারাখের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে কিছু নথি ও অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এর পর শনিবার সকাল থেকে টুলুর শ্যালক মিঠু শেখের বাড়িতেও তল্লাশি শুরু হয়। তদন্তকারীরা টুলুর সঙ্গে তাঁর আত্মীয়স্বজন এবং পরিচিতদের আর্থিক ও অন্যান্য যোগাযোগ খতিয়ে দেখছেন।
টুলুকাণ্ডে এর আগে বড়সড় নগদ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। গত ২৯ জুলাই টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। এত বিপুল সম্পত্তি উদ্ধারের পরও টুলু মণ্ডলের কোনও সন্ধান এখনও মেলেনি।
ফলে তদন্তকারীদের নজর এখন টুলুর ঘনিষ্ঠ ও পরিচিতদের দিকে। ভূমি দফতরের কর্মীর গ্রেফতারি, প্রাক্তন দেহরক্ষীর বাড়িতে তল্লাশি এবং শ্যালকের বাড়িতে অভিযান— সব মিলিয়ে টুলুকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে গতি এসেছে। তবে উদ্ধার হওয়া অর্থ ও সোনার উৎস এবং টুলুর সঙ্গে অভিযুক্তদের প্রকৃত যোগাযোগের বিষয়টি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।