জোড়া গোলে রোনাল্ডোর জবাব!
প্রথম ম্যাচে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল তাঁকে ঘিরে। বয়স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, ফর্ম নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু বড় মঞ্চে কেন তিনি আলাদা, তা আবারও প্রমাণ করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। উজ়বেকিস্তানের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে শুধু দলকে বড় জয় এনে দিলেন না, নিজের বিশ্বরেকর্ডের দিনটিকেও স্মরণীয় করে রাখলেন পর্তুগালের অধিনায়ক।
মঙ্গলবার হিউস্টনে উজ়বেকিস্তানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটের দৌড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল পর্তুগাল। রোনাল্ডো ছাড়াও গোল করেছেন নুনো মেন্দেস, রাফায়েল লিয়াও এবং উজ়বেকিস্তানের খুসানভ আত্মঘাতী গোল করেন। শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ড্র করলেই পরের পর্ব নিশ্চিত করবে পর্তুগাল।
ম্যাচের আগে পরিস্থিতি কিছুটা কঠিন ছিল রোনাল্ডোর জন্য। প্রথম ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, ৪১ বছর বয়সে এখনও কি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে আগের মতো প্রভাব ফেলতে পারবেন তিনি? কিন্তু উজ়বেকিস্তানের বিরুদ্ধে সেই সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন নিজের চেনা ভঙ্গিতে।
তবে ম্যাচের শুরুটাও রোনাল্ডোর জন্য সহজ ছিল না। খেলা শুরুর চার মিনিটের মধ্যেই সহজ সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। বাঁ দিক থেকে নুনো মেন্দেসের ভাসানো বলটিতে শুধু পা ছোঁয়ালেই গোল হতে পারত। কিন্তু সামান্য ব্যবধানে বলের নাগাল পাননি রোনাল্ডো। হতাশায় মাথা নাড়তে দেখা যায় তাঁকে।
কিন্তু সেই ব্যর্থতার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বদলে গেল পুরো ছবি। ডান দিক থেকে পেদ্রো নেতোর ক্রস আসে বক্সে। ভিড়ের মধ্যে থেকে ঠিক জায়গায় পৌঁছে যান রোনাল্ডো। কঠিন কোণ থেকে চলতি বলে শট নিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। গোলের পর সোজা ছুটে যান ডাগআউটের দিকে, সতীর্থদের সঙ্গে ভাগ করে নেন আনন্দের মুহূর্ত।
এই গোলের মাধ্যমেই প্রমাণ হয়ে যায়, বড় মুহূর্তে এখনও রোনাল্ডোর উপর ভরসা করা যায়। লিয়োনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হালান্ডদের মতো তারকারা বিশ্বকাপে নিজেদের ছাপ ফেললেও, রোনাল্ডোও যে এখনও আলোচনার বাইরে নন, তা বুঝিয়ে দিলেন তিনি।
দ্বিতীয় গোলটিও এসেছে রোনাল্ডোর অভিজ্ঞতা এবং বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে। ফ্রিকিকের জায়গা থেকে নিজে শট না নিয়ে নুনো মেন্দেসকে সুযোগ দেন তিনি। মেন্দেসের নিখুঁত শটে বল জালে জড়ায়। গোলের পর রোনাল্ডোর উচ্ছ্বাস দেখে বোঝা যায়, পরিকল্পনাটি তাঁরই ছিল।
তৃতীয় গোলেও ছিল রোনাল্ডোর ফুটবল মস্তিষ্কের ছাপ। ব্রুনো ফের্নান্দেজের পাস পাওয়ার পর তিনি দ্রুত দৌড় শুরু করেন। ডিফেন্ডারদের বিভ্রান্ত করে এমন জায়গায় পৌঁছন, যেখানে বল ধরার বদলে সরাসরি শট নেওয়াই ছিল সেরা সিদ্ধান্ত। তাঁর সেই অভিজ্ঞতাই আবার কাজে আসে।
এই জয়ের মাধ্যমে শুধু পর্তুগালের নকআউটের পথ সহজ হল না, রোনাল্ডোও দিলেন নিজের সমালোচকদের জবাব। বয়স বাড়লেও তাঁর গোল করার ক্ষুধা, বড় ম্যাচে প্রভাব এবং দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করার ক্ষমতা এখনও অটুট।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?