জামিন পেয়ে ফের হামলা
হাওড়ার বাঁকড়ায় পারিবারিক বিবাদের সুযোগ নিয়ে এক যুবকের বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের ওই যুবককে মারধর করেছে বলে জানা গেছে। ঘটনায় গুরুতর আহত যুবক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেখ হাবিব নামের এক যুবকের সঙ্গে তাঁর মা-বাবা ও ভাইদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিবাদ চলছিল। গত সপ্তাহে এই বিবাদের জেরে হাবিবের পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় একটি ক্লাবের কয়েকজন সদস্যকে ডেকে আনেন। এই ক্লাব সদস্যরা এলাকায় শাসক দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ, তারা হাবিব এবং তাঁর স্ত্রী মনিজা বেগমকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে।
প্রথম দফার হামলা এবং পুলিশি ব্যবস্থা
প্রথম ঘটনার পর, হাবিব থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ওই ক্লাবের চারজন সদস্যকে গ্রেফতার করে। তবে তাদের বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য ধারা আনা হয়। ফলস্বরূপ, অভিযুক্তরা বুধবার জামিনে মুক্তি পায়।
জামিন পাওয়ার পরই বুধবার রাত ১১টা নাগাদ হাবিবের পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং জনা দশেক দুষ্কৃতী হাবিবের বাড়িতে চড়াও হয়। দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তারা লোহার রড ও ক্রিকেট উইকেট দিয়ে হাবিবকে নির্মমভাবে মারধর করে। স্বামীকে বাঁচাতে আসা মনিজা বেগমকেও আক্রমণ করে তারা।
আক্রান্ত পরিবারের আতঙ্ক
আক্রান্ত হাবিবের স্ত্রী মনিজা বেগম জানিয়েছেন, ‘‘বুধবার রাতে প্রায় ১০-১৫ জন আমাদের বাড়ির দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে রড এবং উইকেট দিয়ে স্বামীকে নির্মমভাবে মারধর করেছে। আমাকে আঘাত করতে দ্বিধা করেনি। আমি আমার সন্তানকে নিয়ে খুব আতঙ্কে আছি। হামলার ভয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায় থাকতে বাধ্য হচ্ছি।’’
এই ঘটনায় হাবিবকে সংকটজনক অবস্থায় হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ এবং গ্রেফতারি
ঘটনার পুনরাবৃত্তির পরে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে। হাওড়া সিটি পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘‘অভিযোগ পাওয়ার পরেই ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার তাদের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারটি যাতে আর আক্রান্ত না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ নজরদারি চালাচ্ছে।’’
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
পারিবারিক বিবাদ থেকে সন্ত্রাস: এলাকা জুড়ে আতঙ্ক
বাঁকড়ার এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি পারিবারিক বিবাদ হিসেবে শুরু হলেও তা দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষমতার আশ্রয়ে থাকা দুষ্কৃতীরা এই ধরনের হামলায় জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে সঠিক সময়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।
এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘ক্লাবের কিছু সদস্য নিজেদের ক্ষমতাকে অপব্যবহার করছে। এ ধরনের ঘটনা বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে।’’
উপসংহার
হাওড়ার বাঁকড়া অঞ্চলে পারিবারিক বিবাদ থেকে সৃষ্ট এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি সমাজে আইন-শৃঙ্খলার প্রতি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশের পদক্ষেপ সত্ত্বেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে।
এই ধরনের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া একান্ত জরুরি। একইসঙ্গে, পুনরায় এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সুরক্ষা দেওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করার প্রয়োজন।