জয়পুর থেকে বলিউডের সুরজয়: ‘ধুরন্ধর’-এ শাশ্বতের উত্থানের গল্প

‘ধুরন্ধর’-এ শাশ্বতের উত্থানের গল্প! এই মুহূর্তে বক্স অফিসে ঝড় তুলছে Dhurandhar: The Revenge। রণবীর সিংহ-এর অভিনয়ের পাশাপাশি ছবির গানও দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। আর সেই সুরের নেপথ্যে যিনি, তিনি…

April 7, 2026
1 min read

‘ধুরন্ধর’-এ শাশ্বতের উত্থানের গল্প!

এই মুহূর্তে বক্স অফিসে ঝড় তুলছে Dhurandhar: The Revenge। রণবীর সিংহ-এর অভিনয়ের পাশাপাশি ছবির গানও দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। আর সেই সুরের নেপথ্যে যিনি, তিনি হলেন সঙ্গীত পরিচালক শাশ্বত সচদেব—যার কাজ এখন শিল্পীমহলে বিশেষভাবে আলোচিত।

শাশ্বতের সঙ্গীতের বিশেষত্ব হল মেলবন্ধন—ভারতীয় শাস্ত্রীয় ও আঞ্চলিক সুরের সঙ্গে পাশ্চাত্য সংগীতের আধুনিক ছোঁয়া। ‘ধুরন্ধর’-এর গানগুলিতেও তিনি সেই ধারা বজায় রেখেছেন। ‘যাইয়ে সজনা’, ‘জান সে গুজ়রতে হ্যায়’ কিংবা ‘মন আটকেয়া’—প্রতিটি গানই নতুনভাবে সাজিয়ে দর্শকদের সামনে এনেছেন তিনি।

জয়পুরের এক সাংস্কৃতিক পরিবেশে ১৯৮৭ সালে জন্ম শাশ্বতের। মাত্র তিন বছর বয়স থেকেই সঙ্গীতচর্চা শুরু। দীর্ঘ ২১ বছর তিনি তালিম নিয়েছেন উস্তাদ রমজ়ান খানের কাছে। পাশাপাশি পশ্চিমী সংগীত ও পিয়ানোতেও দক্ষতা অর্জন করেন। পড়াশোনা করেন পুনের সিমবায়োসিস ল’ স্কুলে, পরে ২০১১ সালে পাড়ি দেন লস অ্যাঞ্জেলেসে। সেখানে সাউন্ড ডিজ়াইনিং-এ উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে শুরু করেন বলিউডে কাজ।

তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘোরে Uri: The Surgical Strike ছবির মাধ্যমে। তবে ‘ধুরন্ধর’ তাঁকে এনে দিয়েছে নতুন উচ্চতা।

পরিচালক আদিত্য ধর-এর সঙ্গে তাঁর পরিচয়ও বেশ পুরনো। ২০১৬ সালে প্রথম দেখা, তখন শাশ্বতের নামে কোনও উল্লেখযোগ্য কাজই ছিল না। তবুও আদিত্য তাঁর উপর ভরসা রেখেছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে শাশ্বত বলেন, “আমার কোনও রিলিজ়ড গান ছিল না, তবুও তিনি আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন। সেই বিশ্বাসই আজকের জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।”

‘ধুরন্ধর’-এর গানগুলির আর একটি বড় দিক হল পুরনো সুরের নতুন রূপ। যেমন ‘যাইয়ে সজনা’—যা মূলত সতিন্দর সরতাজ-এর জনপ্রিয় গান—নতুন করে সাজিয়েছেন শাশ্বত। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন জসমিন সান্দলাস। আবার ‘জান সে গুজ়রতে হ্যায়’ গানটি কিংবদন্তি নুসরত ফতেহ আলি খান-এর কাওয়ালির আধুনিক রূপ।

বাজেটের দিক থেকেও ছবিটি বড় মাপের—প্রায় ৩২৫ কোটির কাছাকাছি। আর শোনা যাচ্ছে, এই ছবির সঙ্গীত পরিচালনার জন্য শাশ্বত নিয়েছেন আনুমানিক ২-৩ কোটি টাকা পারিশ্রমিক।

শুধু ‘ধুরন্ধর’ নয়, এর আগে তিনি Veere Di Wedding, Attack, Tejas এবং Article 370-এর মতো ছবিতেও কাজ করেছেন।

সব মিলিয়ে, জয়পুরের সঙ্গীতপ্রেমী এক ছেলের যাত্রা আজ বলিউডের মূল স্রোতে। আর ‘ধুরন্ধর’-এর সাফল্য যেন প্রমাণ করে—ভাল সুরের কোনও সীমানা নেই, শুধু দরকার সঠিক সুযোগ আর বিশ্বাস।

শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *