‘জন্মাষ্টমী করি ছেলে পেতে নয়, আমি সবসময় মেয়েই চেয়েছি’ — কৃষভিকে গোপাল সাজানোর ব্যাখ্যা শ্রীময়ীর

‘জন্মাষ্টমী করি ছেলে পেতে নয়, আমি সবসময় মেয়েই চেয়েছি’! কাঞ্চন মল্লিক ও শ্রীময়ী চট্টরাজের জীবনে কৃষভি কেবল তাঁদের কন্যা নন, বরং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মূর্ত প্রতীক বলেই যেন ধরা দেয়। জন্মের…

August 17, 2025
1 min read

‘জন্মাষ্টমী করি ছেলে পেতে নয়, আমি সবসময় মেয়েই চেয়েছি’!

কাঞ্চন মল্লিক ও শ্রীময়ী চট্টরাজের জীবনে কৃষভি কেবল তাঁদের কন্যা নন, বরং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মূর্ত প্রতীক বলেই যেন ধরা দেয়। জন্মের পর থেকেই কৃষভিকে বারবার ‘গোপাল’-এর সাজে দেখতে চেয়েছেন তাঁরা। অন্নপ্রাশনের দিন যেমন, তেমনই এ বার জন্মাষ্টমীতেও ছোট্ট কৃষভিকে বাঁশি হাতে, মুকুট মাথায়, নীল উত্তরীয় জড়িয়ে সাজিয়ে তুললেন শ্রীময়ী। যেন তাঁদের ঘরেই জন্মেছে এক জীবন্ত কৃষ্ণ!

কৃষভির নামকরণ নিয়েও রয়েছে এক বিশেষ তাৎপর্য। শ্রীময়ী ও কাঞ্চন দু’জনেই কৃষ্ণভক্ত। তাই কন্যার নাম রেখেছেন ‘কৃষভি’, যার অর্থ শুভ, পবিত্র, দয়ালু ও বন্ধুত্বপূর্ণ। নামেই লুকিয়ে রয়েছে তাঁদের ভক্তি ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন।

তবে প্রশ্ন উঠেছিল— কন্যাকে গোপালের সাজে সাজানো কি এই কারণে যে শ্রীময়ীর আসলে ছেলের ইচ্ছা ছিল? অভিনেত্রীর কাছে এই প্রশ্ন পৌঁছাতেই তিনি স্পষ্ট করে জানালেন, ‘‘না, আমার কোনও দিনও ছেলের ইচ্ছে ছিল না। আমি সবসময় মেয়েই চাইতাম। ডাক্তারকেও বলেছিলাম, আমার মেয়ে হবে।’’ শ্রীময়ীর কথায়, তিনি কৃষ্ণভক্ত বলেই বারবার তাঁর আরাধ্য দেবতার সেই রূপ সন্তানকে দিয়ে ফুটিয়ে তুলতে চান। ছেলে নয়, মেয়ে হয়েও কৃষভিকে তাই সাজানো হয় শ্রীকৃষ্ণের মতো করে।

শ্রীময়ী অকপটে স্বীকার করেছেন, তাঁর মা কিংবা চিকিৎসক অনেকেই ভেবেছিলেন— এত ভক্তি-ভালোবাসা থেকে বোধহয় তিনি ছেলে পাবেন। কিন্তু তাঁর নিজের মনোভাব ছিল অন্যরকম। ‘‘কৃষভিই আমাদের সেরা উপহার। আমি সবসময় মেয়েকেই চেয়েছিলাম। আজ ওকে গোপাল সাজাতে পেরে আমি অপরিসীম আনন্দ পাই,’’ বললেন অভিনেত্রী।

গত বছর অন্তঃসত্ত্বা থাকার কারণে জন্মাষ্টমী পালন করতে পারেননি শ্রীময়ী। তাই এবারের উৎসব ছিল তাঁর কাছে বিশেষ আবেগঘন। ঘরের গৃহসহায়িকার সঙ্গে নিজে হাতে তিনি রেঁধেছিলেন তাল ক্ষীর, তালের বড়া, তালের লুচি, ভোগের জন্য নানা পদ— লুচি, ফ্রায়েড রাইস, আলুর দম, পনীর, ভাজা, চাটনি, সেমুইয়ের পায়েস আর নানা স্বাদের চকলেট। কৃষ্ণকে যেমন সাজানো হয় সোনার গয়নায়, তেমনভাবেই সাজিয়ে তুলেছিলেন কন্যাকে।

শুধু তাই নয়, জন্মাষ্টমীর ভোগের জন্য তিনি গিয়েছিলেন নিজের বাবার বাড়ি, উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারে। সেখান থেকে এনেছিলেন কৃষভির জন্য পছন্দের মিষ্টি। আর সেই সব আয়োজন ঘিরেই যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে এবারের জন্মাষ্টমী।

অভিনেত্রীর কথায় স্পষ্ট— তাঁর কাছে এই দিন শুধুই ভক্তির উৎসব নয়, কন্যাকে কৃষ্ণরূপে সাজানোর এক আবেগমাখা মুহূর্ত। ‘‘ছেলে পেতে নয়, আমার ভক্তিই আমাকে এই সাজ করতে শেখায়। মেয়ে হোক বা ছেলে, কৃষভির মধ্যে আমি আমার কৃষ্ণকে দেখতে চাই,’’ বললেন শ্রীময়ী।

👉 এক কথায়, কৃষভির গোপাল সাজ শুধু শ্রীময়ীর মাতৃত্বের অনুভূতি নয়, বরং তাঁর ভক্তি, আবেগ আর ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি।

চল্লিশের পরও তারুণ্য অটুট রাখবে এক বিশেষ পানীয়

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *